


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজমিরের পর খুলদাবাদ। আরও প্রকট হল সঙ্ঘ পরিবারের বিভাজন। আওরঙ্গজেব বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার ধাক্কা দিল খোদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। সঙ্ঘ পরিবারের চালিকাশক্তি আরএসএস মুখপাত্র সুনীল আম্বেকর বুধবার বলে দিলেন, ‘আওরঙ্গজেব এখন অপ্রাসঙ্গিক। তাঁকে নিয়ে যে হিংসাত্মক ঘটনা চলছে, সেটা অযৌক্তিক। আওরঙ্গজেব বিরোধী ইস্যুতে হিংসার সমর্থন করি না আমরা। ওটা কোনও প্রাসঙ্গিক ইস্যুই নয়।’
মহারাষ্ট্রের খুলদাবাদে আওরঙ্গজবের সমাধিকে সরাতে হবে অথবা ধ্বংস করতে হবে, এই দাবি নিয়ে সরগরম নাগপুর তথা জাতীয় রাজনীতি। কিন্তু খোদ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অতি সক্রিয়তায় জল ঢেলে দিল আরএসএস। রাজস্থানের আজমিরের খাজা মইনুদ্দিন চিস্তির দরগার নীচে মহাদেবের মন্দির রয়েছে—এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং সেই সূত্রে আজমিরে খননকার্য শুরুর দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে শুরু করে হিন্দু সেনা। কিন্তু সেই ইস্যু স্তিমিত। কারণ, স্বয়ং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসংঘচালক স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, যে কোনও ইস্যুতে রামমন্দিরের মতো এক আবেগ সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করে অস্থিরতা সৃষ্টি আমরা মেনে নেব না। রামমন্দির পৃথক আবেগের নাম। তার মানে এই নয় যে, যখন তখন যে কোনও স্থানে ওইরকম আন্দোলন শুরু করা যায়। আরএসএসের সেই হুঁশিয়ারিতে দমে যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।
প্রায় একইরকম ইস্যুতে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত নাগপুর। অধিকাংশ এলাকাই কার্ফুর অধীনে। ১৭০৭ সালে আহমেদনগরে মৃত্যু হলেও, আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুসারে তাঁকে সমাহিত করা হয় ১৩৬ কিলোমিটার দূরের খুলদাবাদে। সেই সমাধি রাখা যাবে না বলে আচমকা হিন্দুত্ব সংগঠগুলি দাবি তোলে। তার জেরেই শুরু সংঘাত। এই ইস্যু সরকারি সমর্থনও পেয়ে যায়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ পর্যন্ত বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে আওরঙ্গজেবের মতো মানুষের সমাধিকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দিতে হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ছাবা’ নামক এক হিন্দি সিনেমায় আওরঙ্গজেব বনাম ছত্রপতি শম্ভাজি মহারাজের (শিবাজিপুত্র) সংঘাত দৃশ্যায়িত করা হয়। এই বিতর্কের মধ্যেই নাগপুরের সংঘর্ষ। প্রসঙ্গত, ৩০ এপ্রিল নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের দপ্তরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর আগমনের প্রাক্কালে এরকম ইস্যুতে নাগপুর অশান্ত হওয়ায় ক্ষুব্ধ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ।