


সংবাদদাতা, বনগাঁ: গত মাসের ২৬ তারিখ শুরু হয়েছিল বারুণী মেলা। তা শেষ হয়েছে চলতি সপ্তাহের বুধবার। ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে এ সময় লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। মতুয়া ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে প্রতিবছর হয় মেলার আয়োজন। ভক্তদের পাশাপাশি বহু দূর থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন পসরা নিয়ে। এ বছর মেলার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মতুয়া সঙ্ঘের দুই সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর ও মমতাবালা ঠাকুর। তাঁদের যৌথ উদ্যোগে গঠন হয়েছিল কমিটি। দু’জনে একত্রভাবে অনুষ্ঠান করেছেন বলে মেলায় ভিড় হয়েছে বেশি বলে বক্তব্য অনেকের। এর ফলে লাভের মুখও দেখতে পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নদিয়ার ধানতলা থেকে এসেছিলেন অমর বালা। মেলায় মালার দোকান দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের মনে আনন্দ থাকলে ব্যবসা ভাল হবেই। এ বছর যৌথভাবে মেলা হওয়ায় ভক্ত সমাগম ছিল চোখে পড়ার মত। তাঁরা মনের আনন্দে জিনিসপত্র কিনেছেন।’ তিথি মতে এ বছর দু’দিন পুণ্যস্নানের যোগ ছিল। যে কারণে দু’দিন ধরে ভক্তরা স্নান করেছেন। একদিন যদি স্নানযোগ থাকত তাহলে সবাইয়ের জায়গা হতো না বলে মনে করছে সবাই।
শিমুরালি থেকে এসেছিলেন তাপস দাস। তিনি স্টেশনারি জিনিসপত্রের দোকান দিয়েছিলেন। বললেন, ‘এভাবে মেলা হলে প্রতিবছরই উৎসাহ নিয়ে দোকান দেব। মানুষ ভালোভাবে মেলায় ঘুরেছেন। জিনিসপত্র কিনেছেন।’ প্রসঙ্গত গত বছর ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক বিবাদের জেরে মেলায় আগত ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এবার যৌথভাবে মেলা হওয়ায় খুশি তাঁরা। প্রতিবছর বারুণী স্নান উপলক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরে পুণ্যস্নান করেন। কামনা সাগরের জলে প্রণামী দেন। মেলা শেষে কিছু ব্যক্তি জল থেকে সেই প্রণামী তোলার কাজ করেন। পুণ্যস্নান শেষে কামনা সাগরে ডুব দিয়ে লক্ষ্মীলাভ হয় তাঁদের। বৃহস্পতিবার কামনা সাগরে খুচরো পয়সা তুলছিলেন গোপাল দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। লম্বা দড়ির মাথায় চুম্বক লাগিয়ে জলে ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন, চুম্বকে আটকে যাচ্ছিল পয়সা। অনেকে আবার জলে ডুব দিয়ে তুলে আনছিলেন প্রণামীর খুচরো। সবমিলিয়ে মেলার ছবি ছিল জমজমাট। পুণ্য ও আনন্দ উপভোগ একইসঙ্গে করেছে ভক্তরা। নিজস্ব চিত্র