


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন। তবে ৩১ রাজনৈতিক দলের ৫১ জন সাংসদ উপস্থিত থাকা বৈঠকেও কী হবে সরকারের ‘এজেন্ডা’, তা স্পষ্ট করেনি মোদি সরকার। তাই সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। লোকসভার উপদলনেতা তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বৈঠক হল টানা তিন ঘণ্টা। সকাল ১১ টা থেকে বেলা দুটো। উল্লেখযোগ্যভাবে, আজ অধিবেশন আরম্ভের আগে প্রধানমন্ত্রী সংসদ চত্বরে তাঁর বক্তব্য রাখবেন না। সেটি হবে আগামী কাল বৃহস্পতিবার। যা নজিরবিহীন। সাধারণত শুরুর দিনেই আসন্ন অধিবেশন সম্পর্কে মন্তব্য দিয়ে এসেছেন মোদি। এবারও তাই ঠিক হয়েছিল। তবে রাতে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
এদিনের সর্বদল বৈঠকে সুযোগ পেয়ে বাংলায় সাম্প্রতিক ইডি হানা, এসআইআরে মানুষের মৃত্যু, বাংলার বকেয়া এখনও না মেটানোর মতো ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূলের শতাব্দী রায় এবং সাগরিকা ঘোষ। অধিবেশনেও এই বিষয়গুলিতে সরব হবে তৃণমূল। আজই বিকেলে দিল্লিতে আসছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে ঝড় তুলবে তৃণমূল।
সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের দুই সাংসদ বলেছেন, সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। রাজনৈতিক দলের স্ট্র্যাটেজিস্টের বাড়ি-অফিসে কেন হানা দেবে ইডি? এসআইআরে মানুষের মৃত্যুর নিয়েও সংসদে আলোচনা করতে হবে। তৃণমূল এদিনের বৈঠকে বারবার জানতে চেয়েছে বাজেট অধিবেশনে সরকারের এজেন্ডা কী? নতুন কোনও বিল আনা হবে কিনা? কী ইস্যুতে আলোচনা হবে? ইত্যাদি। বৈঠকের পর লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেত্রী শতাব্দী বলেন, সরকার তো কিছুই বলল না। স্রেফ বুধবার থেকে কী কী হবে, তা বলেছে। বিল নিয়ে কিছু বলেনি। বিরোধীদের তোলা ইস্যুতে আলোচনা হবে বলেও কথা দেয়নি। তাই আমি বলেছি, বিরোধীদের কোনো বিষয়ও কি সরকার সংসদে মানবে না?
জবাবে সরকারপক্ষ স্রেফ জানিয়েছে, বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ সভায় অভিভাষণ হবে। বৃহস্পতিবার পেশ হবে ২০২৬-২৭ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা। রবিরার ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বাজেট। প্রথম দফায় অধিবেশন চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরের দফায় চলবে ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল। বাকি সম্ভাব্য বিল নিয়ে কিছু জানায়নি। তার জায়গায় গত অধিবেশনে সরকার কী কী বিল পেশ করেছে, কোন বিল কী অবস্থায় রয়েছে, তার একটি তালিকা বৈঠকে উপস্থিত সাংসদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে রয়েছে বাদল অধিবেশনে লোকসভায় সরকারের পেশ করা ৯টি বিলের কোনটি কোন কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় ১৯ টি বিলের কোনটি স্থায়ী কমিটিতে গিয়েছে। কোনটি যায়নি।
তাই বৈঠকে পর কংগ্রেসের মানিক্কম টেগর বলেন, সরকার বৈঠক ডেকে সময় নষ্ট করেছে। তবে আমরা ভোট চুরি, নারেগা আইন ফেরানো, এসআইআর নিয়ে সরব হব। বৈঠকে শেষে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী রিজিজুর স্পষ্ট জবাব, নির্বাচনী সংস্কারে এসআইআর আলোচনা হয়ে গিয়েছে। আর হবে না। আর জি রাম জি এখন আইন। সেটি প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই।