


নিজস্ব প্রতিনধি, নয়াদিল্লি: না জবাবদিহি, না পরিবর্তন। স্রেফ প্রচার। সোমবার মোদি সরকারের ১১ বছর পূর্তিকে এভাবেই ব্যাখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসও কটাক্ষের সুরে বলল, নরেন্দ্র মোদি তো প্রধানমন্ত্রী নন, প্রচারমন্ত্রী। ‘এক পেড় মা কে নাম’ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বিনামূল্যে রেশন। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে আত্মনির্ভরতা থেকে বিদেশনীতি। উঠল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গও। কংগ্রসের মন্তব্য, জুমলা সরকার। অর্থাৎ ভাঁওতার সরকার।
দলের মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বললেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১১ বছর হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। নিজের তৈরি চিত্রনাট্য না মেনে তিনি সাক্ষাৎকার দেন না। তবে কি এতদিনেও সেই চিত্রনাট্য তৈরি হয়নি? সরকারের সমালোচনায় সোমবার পুস্তিকা প্রকাশ করল কংগ্রেস। যেখানে দলের দাবি, মায়ের নামে একটি গাছ লাগানোর কর্মসূচিকে আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে মোদি সরকার এখনও পর্যন্ত ১৪২ কোটি গাছ লাগিয়েছে বলে প্রচার করছে ঠিকই। কিন্তু স্রেফ গত ছ’বছরেই ৫.০৮ লক্ষ হেক্টর এলাকার গাছ নষ্ট হয়েছে। গত ১০ বছরে ১.৭৩ লক্ষ হেক্টর জঙ্গলের জমি পরিকাঠামেগত কাজে লাগানো হয়েছে। তাই এখন মায়ের নামে গাছ পুঁতলেও আদতে সবুজ ধ্বংস করছে মোদি সরকার।
কংগ্রেসের প্রশ্ন, ৮১ কোটি মানুষকে বিনামূল্যের খাদ্যশস্য দেওয়ার পরেও কেন অপুষ্টি এখনও মূল সমস্যা? কেনই বা ক্ষুধার্তের তালিকায় ১২৭ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০৫? মোদি সরকার কৃষি বাজেট বাড়িয়ে কৃষকের কল্যাণের দাবি করলেও দেশের ৫৫ শতাংশ কৃষক পরিবার ঋণগ্রস্ত। কংগ্রেসের পুস্তিকায় প্রশ্ন, ডিআরডিও’র মিশন মোডের ৫৫ প্রকল্পের মধ্যে ২৩টি চলছে ধীরগতিতে। কংগ্রেসের সওয়াল, কাশ্মীরে ৩৭০ এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পরেও কেন কাশ্মীর শান্ত হয়নি?