


ভোপাল: আতঙ্কের নাম বিষাক্ত কাফ সিরাপ। বেড়েই চলেছে মৃত্যু মিছিল। মধ্যপ্রদেশে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অধিকাংশই ছিন্দওয়াড়া জেলার। এছাড়ও নাগপুরে পাঁচ শিশু মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের মধ্যে এইমসে ভর্তি রয়েছে দু’জন। বাকিদের মধ্যে দু’জন সরকারি এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লা বলেন, অসুস্থ শিশুদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাফ সিরাপে শিশু মৃত্যুর তদন্তে সিট গঠন করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। বুধবার তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমে অভিযুক্ত কাশির সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থায় হানা দিয়ে মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসআর-১৩ ব্যাচের এই কাফ সিরাপে নির্ধারিত মাত্রার থেকে বেশি পরিমাণে ডাই-ইথাইল গ্লাইকল ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। সেই কাফ সিরাপ খেয়ে কিডনি বিকল হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর সামনে আসতেই সারা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে এই কাশির ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কেরল, পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশ। পাশাপাশি প্রবীণ সোনি নামে এক চিকিৎসককেও গ্রেফতার করেছে মধ্যপ্রদেশে পুলিশ। অভিযোগ, ওই ডাক্তারের পরামর্শে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের কাপ সিরাপ খেয়ে শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি ওই সিরাপ প্রেসক্রাইব করে আসছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় ডাক্তারের উপর দোষ চাপানোটা ঠিক নয়।
ডাক্তারের গ্রেফতার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিলীপ ভানুশালীরও। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় চিকিৎসকদের কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয়। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে। তাছাড়া ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে গাফিলতিও রয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।