


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অমরনাথ যাত্রা কি জঙ্গিদের পরবর্তী টার্গেট? শুধু অমরনাথ যাত্রা নয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে প্রাণপণ চেষ্টা চলছে আবার কাশ্মীরেই হামলা করার। জঙ্গিদের নজরে রয়েছে ডাল লেক, যেখানে সবথেকে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। অমরনাথ দর্শনের পর বহু তীর্থযাত্রীই ভ্রমণের জন্য শ্রীনগরে চলে আসেন। যেহেতু অমরনাথ যাত্রাকালে নিরাপত্তার দিকে সবথেকে বেশি মনোযোগ থাকে সেই রুটে, তাই ডাল লেককে টার্গেট করা হতে পারে। আর সেই কারণেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী হাতে নিল নতুন মিশন। নাম ‘অপারেশন ডাল’!
সীমান্ত পেরিয়ে এসে অমরনাথ যাত্রায় জঙ্গি হামলা একমাত্র শঙ্কা, এমন নয়। তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে মিশে গিয়েও আক্রমণ করার প্ল্যান নেওয়া হতে পারে। সেই কারণে ড্রোন, বম্ব স্কোয়াডের ঘেরাটোপ ছাড়াও ‘মার্কসম্যান’ নামক বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ি থাকবে যাত্রীদের ঘিরে। সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ককে। অতীতে এই জাতীয় সড়কে তীর্থযাত্রী এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের কনভয় লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এবার সেই রাস্তায় কুইক রেসপন্স টিম রাখা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা।
আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হবে অমরনাথ যাত্রা। চলবে ৩৮ দিন ধরে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে টোকেন বিলি। ইস্যু করা হচ্ছে ডিজিটাল আইডি। যে পথে কনভয় চলে, সেই যাত্রাপথে একের পর এক অ্যাপ্রোচ রোড থাকে। এবার যখনই কনভয় যাবে, তার অনেক আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হবে প্রতিটি অ্যাপ্রোচ রোড। জ্যামার থাকবে বিশেষ কিছু স্পর্শকাতর অঞ্চলে।
মঙ্গলবার থেকে ডামি কনভয় চলবে নির্দিষ্ট রুটে। এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সবথেকে বড় পরীক্ষা হল অমরনাথ যাত্রাকে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত রাখা। পহেলগাঁওয়ের হামলার দোষীরা আজও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা কোথা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিল, সেব্যাপারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিসের মধ্যে এখনও মতান্তর রয়েছে। চারজন জঙ্গি এভাবে পহেলগাঁওয়ে এসে গণহত্যা চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গিয়েছে। তাদের হদিশ নেই। অমরনাথ যাত্রাকে তাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে কেন্দ্র। কারণ, অমরনাথ যাত্রায় আবার একটিও জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলে চরম ব্যর্থতার নজির তৈরি হবে। এই কারণে গোটা যাত্রাপথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুরক্ষা প্রদানে থাকবে ‘কে নাইন’ ইউনিট।