


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি; সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা নিয়ে কর্পোরেট জগৎ ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার যৌথ প্রতারণা ফের সংবাদের শিরোনামে। তবে এবার আর স্বল্পখ্যাত বা অজানা সংস্থা নয়, অভিযোগ খোদ আম্বানিদের ঘরে। অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দিল্লি ও মুম্বইজুড়ে দিনভর ইডি তল্লাশি চালাল রিলায়েন্সের অন্যতম কর্তা অনিল আম্বানির ৩৫ সম্পত্তি ও ৫০টি সংস্থার দপ্তরে।
শুরুটা হয়েছিল চলতি বছরের জুন মাসে। অনিল আম্বানিকে প্রতারক আখ্যা দিয়ে সিবিআইয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। আর সেই টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে অনিল আম্বানির সংস্থা। ইডি জানিয়েছে, এই ঋণ অনুমোদনের বিনিময়ে ইয়েস ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের কাছে বিপুল ‘উৎকোচ’ পৌঁছে গিয়েছে বেনামী সংস্থার তরফে। একই অভিযোগ কানাড়া ব্যাঙ্ক থেকে। প্রতারণার অঙ্ক এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থমন্ত্রককে ইডি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা পরিশোধ করা হয়নি। বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্তা ও আধিকারিকদের সঙ্গে অনিল আম্বানির সংস্থার যোগসাজশও ধরা পড়েছে। এভাবে দেশজুড়ে রিলায়েন্স ও ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের জাল বিস্তার করা হয়েছে। ইডি জানতে পেরেছে একঝাঁক বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এন্ট্রি পাওয়া যাচ্ছে অনিল আম্বানির কোম্পানির অডিট বুকে। অথচ, সেইসব অ্যাকাউন্টে লেনদেনের কোনও কাগজপত্রই নেই।
কতদূর বিস্তৃত অনিল আম্বানির এই ঋণ প্রতারণা? ইডির কাছে অভিযোগ এসেছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি এবং ব্যাঙ্ক অব বরোদা থেকেও। অর্থাৎ, প্রতারণার অঙ্ক কোথায় পৌঁছতে পারে সেটা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে আকাশছোঁয়া বটেই। ইডি মনে করছে, বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি, মেহুল চোকসির তুলনায় আম্বানির ঋণ প্রতারণার ব্যাপ্তি অনেক বেশি।
প্রশ্ন উঠছে, বিগত ১১ বছর ধরে এইসব নামজাদা প্রতারকরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে সিবিআইয়ের চোখের সামনে দিয়ে। কিন্তু অনিল আম্বানির সংস্থাকে নিয়ে কোনও কঠোরতা দেখায়নি কেন মোদি সরকার? সর্বোপরি রাফাল চুক্তির সময় রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ নির্মাণে একগুচ্ছ নামী সংস্থাকে ‘বাদ’ দিয়ে দাসোর সঙ্গে অনিল আম্বানির সংস্থার যৌথ ভেঞ্চারের পিছনে কাদের মদত ছিল, সে প্রশ্নও উঠছে। শেষ
মুহূর্তে অবশ্য রাফাল উৎপাদনকারী
সংস্থা দাসোই পিছিয়ে যায়। অনিল আম্বানির সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে তারা রাজি হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হল, অনিল আম্বানি রাফাল চুক্তির মতো একটি হাই প্রোফাইল ডিলের অঙ্গ হতে চলেছিলেন কীসের জোরে? ইডি তল্লাশির পর জোরদার হচ্ছে এই বিতর্ক।