


নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের পর এবার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের নিশানায় দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। সরাসরি কুরেশিকে ‘মুসলিম কমিশনার’ বলে কটাক্ষ করেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার এই সাংসদ। পাল্টা জবাবও দিয়েছেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারও। তাঁর দাবি, ঘৃণার রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কিছু মানুষ ইচ্ছে করে সর্বত্র ধর্মের তকমা সেঁটে দিতে চায়। এদিন সংবাদমাধ্যমকে কুরেশি বলেন, ‘আমি এমন একটা ভারতে বিশ্বাস করি, যেখানে কোনও ব্যক্তির পরিচিতি তাঁর গুণ ও সমাজের প্রতি অবদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, ধর্মের নিরিখে নয়।’
ওয়াকফ আইন নিয়ে কুরেশির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। গত ১৭ এপ্রিল তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, মুসলিমদের জমি কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে মোদি সরকারের কুৎসিত ও ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনারই ফসল এই আইন। পাল্টা নিশিকান্ত বলেন, ‘আপনি নির্বাচন কমিশনার ছিলেন না, আপনি ছিলেন মুসলিম কমিশনার। আপনার আমলেই ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছিল।’
অন্যদিকে, নিশিকান্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার অনুমতির চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। এব্যাপারে অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে সোমবার জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। ‘শীর্ষ আদালত সীমা ছাড়াচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার এমপি। পদ্মপার্টির সাংসদের এহেন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আইনজীবী আনাস তানবীর বিজেপি সাংসদের মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অবমাননাকর ও উস্কানিমূলক’ উল্লেখ করেন। সেই প্রেক্ষিতে তিনি এমপির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা শুরু করার অনুরোধ জানান। এর জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে। বিচারপতি গাভাই বলেন, আবেদনকারীকে শুধু অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি নিতে হবে। পরে আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে চিঠি লিখে বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করার অনুমতি চান।