


ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশে মৌলবাদীরা ক্ষমতা দখলের সুযোগ খুঁজছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করল মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। সোমবার রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে ‘নতুন’ বাংলাদেশে মৌলবাদীদের ক্রমাগত হুমকি, খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, মহিলাদের উপর আক্রমণ, মেয়েদের ফুটবল খেলতে বাধা ও পুলিসের কাছ থেকে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরে যাওয়ার পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মৌলবাদীরা প্রথমে মহিলাদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে। মৌলবাদীরা হুমকি দিচ্ছে, তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবে না। রাস্তায় মহিলাকে হেনস্তা করার পরও অভিযুক্তকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে পুলিস। তারপর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিল করছে। ‘ধর্মীয় অবমাননা’ করলে খোলাখুলি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিচ্ছে মৌলবাদীরা। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে, তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মৌলবাদীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে প্রচুর মহিলা অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত দেখে তাঁদের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তাঁদের সেই সময় বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। বলা হয়েছে, মহিলারা বৈচিত্রপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের এখন মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। যেভাবে হিন্দুদের মন্দির, অন্য সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা চালানো হচ্ছে তা নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
যদিও এই প্রতিবেদন নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর। ভুল চিত্র ও একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।