


নয়াদিল্লি: রাতভর প্রবল বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। তার জেরে নাজেহাল অবস্থা রাজধানী দিল্লির। জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট। পাশাপাশি পরিষেবা বিঘ্নিত হয় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। প্রবল বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে এক নম্বর টার্মিনালের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। সেখান দিয়ে অঝোরে জল পড়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। দেখা গিয়েছে, ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দরের একটি অংশ দিয়ে জল পড়ছে। দুর্যোগের জেরে ১৭টি আন্তর্জাতিক উড়ান সহ ৪৯টি বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এবছর আগেভাগে কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়েছে। শনিবার দিল্লিতে ঝড় ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দপ্তর। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ রাজধানীতে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে চলে বর্ষণ। এই সময়ের মধ্যে মোট ৮১.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরইমধ্যে রাত দু’টো নাগাদ ৭০-৮০ বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। তা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে। এই দুর্যোগে দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমাবন্দরের টার্মিনাল-১-এর ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় নির্মাণের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিমানবন্দরের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত জল যাতে জমতে না পারে তারজন্য ১ নম্বর টার্মিনালের ছাদে বিশেষ ধরনের বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান দিয়েই জল নীচে গড়িয়ে পড়েছে। এতে মূল কাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এদিন বৃষ্টির জেরে মিন্টো রোড, মোতি বাগ সহ রোডে জল জমে যায়। মিন্টো ব্রিজের আন্ডারপাসে জল জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়।
ভারী বৃষ্টি ও ধসের জেরে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের সাত নম্বর জাতীয় সড়ক। ধরা দেবী মন্দির থেকে রুদ্রপ্রয়াগের শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। তার জেরে ব্যাপক হয়রানির শিকার হন পুণ্যার্থী থেকে পর্যটকরা। দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ,হৃষিকেশ, চামোলি, যোশিমঠ ও বদ্রীনাথ যাওয়ার জন্য সাত নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করেন তাঁরা। এদিনের যানজটের পণ্যবাহী গাড়িও আটকে পড়ে।