


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পারফরম্যান্স। বিগত বছরগুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি বারংবার গালভরা প্রচার করেছেন যে, সড়ক বিপ্লব করছেন তাঁরা। কখনও বাজেটে বলা হয়েছে ২৫ হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তা হবে, কখনও বলা হয়েছে, রাজ্যে রাজ্যে এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়ের জোয়ার আসবে। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, হাইওয়ে নির্মাণ ক্রমেই কমিয়ে দিচ্ছে মোদি সরকার। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে মোট হাইওয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১২,৩৪৯ কিলোমিটার। পক্ষান্তরে সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে হাইওয়ে নির্মাণ কমে এসেছে ৭ হাজার কিলোমিটারে। ২০২০-২১ সালে শিখরে পৌঁছেছিল হাইওয়ে নির্মাণ। করোনাকালে যেখানে আর্থিক লেনদেন, শিল্প উৎপাদন, লকডাউনের জেরে শ্রমিকের আকাল ইত্যাদি কারণে প্রতিবন্ধকতা হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই রেকর্ড। আর ২০২৫ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছিল ভারতের অর্থনীতি ৫ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছে যাওয়ার। পরে সেই সময়সীমাকে তিন বছর পিছনো হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুতে হাইওয়ে নির্মাণের হার সর্বনিম্ন।
হাইওয়ে নির্মাণকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান একটি মাপকাঠি ও চালিকাশক্তি বলে ধরা হয়। কারণ যত বেশি সড়ক নির্মাণ করা হবে, ততই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়ে বাণিজ্য ও কমর্সংস্থানের দরজা খুলবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রথমে টার্গেট নেওয়া হয়েছিল ১০ হাজার ৫০০ কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণের। সেই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয় মাঝপথে। কারণ সরকার ঠিক করে, পুরনো সড়ক সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০২১ সালেও। কিন্তু হাইওয়ে নির্মাণ কমেনি। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত গড়ে বছরে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু সেখানে হঠাৎ সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছে টার্গেট। ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি হাইওয়ে নির্মাণ হয়নি, এই ঘটনা শেষবার ঘটেছিল ২০১৭ সালে। হাইওয়ে নির্মাণ কমিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় সবথেকে ধাক্কা খাবে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং শিল্প পরিকাঠামো। কারণ এই দুই ক্ষেত্রেরই অর্থনীতি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হাইওয়ের সম্প্রসারণের উপর।