


নয়াদিল্লি: প্রয়াগরাজে গঙ্গাস্নানে যাবেন বিএসএনএলের ডিরেক্টর। আর তাঁর স্নান, নৌকায় ভ্রমণ থেকে শুরু করে মন্দির দর্শন—মোট ২১টি কাজের জন্য দু’দিন মোতায়েন থাকবেন ৫০ জন কর্মী। ব্যবস্থা করতে হবে বিশেষ ‘স্নান কিট’-এর। সংস্থার তরফে এমন নির্দেশিকা জারির পরেই হইচই শুরু হয়। আর্থিক ভারে দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে বিএসএনএল। গত ত্রৈমাসিকেও সংস্থার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অথচ সেই সংস্থার ডিরেক্টরের ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য এত বিপুল খরচ করে আয়োজন কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চাপের মুখে বাতিল করা হয় ওই সফর। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এবার পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিবেক বনজাল নামে ওই ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে শো-কজ নোটিশ। মুখ খুলেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সরকারি খরচে ব্যক্তিগত সফরের বিষয়টিকে ‘অশোভন’, ‘জঘন্য’ এবং কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সিন্ধিয়া বলেন, ‘এই ঘটনায় সরাসরি আইন ভাঙা হয়েছে।’ ওই ডিরেক্টরকে সাতদিনের মধ্যে শো-কজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব খতিয়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াগরাজে যাওয়ার কথা ছিল বিবেক বনজালের। এর জন্য বিএসএনএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে সংস্থারই ৫০ জন কর্মীকে বিবেকের সফরের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়। নির্দেশিকায় বলা হয়, ডিরেক্টর ও তাঁর সফরসঙ্গীদের গঙ্গাস্নানের জন্য ‘স্নান কিট’-এর ব্যবস্থা করতে হবে। পুরুষদের কিটে তোয়ালে, অন্তর্বাস, তেল, সাবান-শ্যাম্পু, আয়না, চটি ও চিরুনি থাকবে। মহিলাদের জন্য আলাদা কিটের কথা বলা হয়। ঘাটে ব্যবহারের জন্য বিছানার চাদর কিনতে বলা হয়। এছাড়া সঙ্গমে স্নানের জন্য নৌকা, হোটেলের স্যুট, ছবি তোলা, গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছিল, হোটেল ও সার্কিট হাউসে শুকনো এবং সাধারণ ফল, বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, জলের বোতল, চকোলেট, চিপস ও অন্যান্য খাবার যাতে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু পুরো নির্দেশিকাই সমাজমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়! তাতেই সামনে আসে পুরো বিষয়টি। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটিকে সহজভাবে নেওয়া হচ্ছে না। এতে বিএসএনএলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শো-কজের জবাব পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।