


মুম্বই, ২৫ মার্চ: কৌতুক কাণ্ডে দেশজুড়ে তোলপাড়। মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেকে নিয়ে মশকরা করায় রাজ রোষের কোপে পড়েছেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। সম্প্রতি একটি স্ট্যান্ড আপ কমেডি শোতে দেশের বিভিন্ন শিল্পপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, একনাথ সিন্ধে সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে মশকরা করেন কুণাল। সেই স্ট্যান্ড আপ শোতে মশকরা করতে গিয়েই মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেকে ‘গদ্দার’বলে কটাক্ষ করেছিলেন এই কমেডিয়ান। তারপরেই কুণালের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুম্বইয়ের যে হোটেলের এক স্টুডিওতে এই স্ট্যান্ড আপের শো হয়েছিল, গত রবিবার রাতে সেখানে ভাঙচুর চালায় শিবসেনার(একনাথ সিন্ধে শিবির) কর্মী-সমর্থকেরা। এই ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
অবশ্য ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ১১ জন জামিন পেয়ে যান। তারপরেই গতকাল, সোমবার কুণালকে ক্ষমা চাইতে বলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। তিনি বলেন, ‘কুণালকে ক্ষমা চাইতে হবে। উপ মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। সিন্ধেকে নিয়ে কুণালের মশকরায় কোনও হাস্যরস নেই। নেতাদের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ যদিও কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘একমাত্র আদালত নির্দেশ দিলেই তিনি ক্ষমা চাইবেন।’ এইসবের মাঝেই গোটা বিষয়টি নিয়ে আজ, মঙ্গলবার মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেছেন, ‘বাক স্বাধীনতা রয়েছে, রসিকতাও আমরা বুঝি। তবে সমস্ত কিছুর একটা সীমা থাকা জরুরি। মনে হচ্ছে কারও বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য সুপারি দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি সীমা ছাড়িয়ে গেলে সমস্যা তৈরি হবেই। অ্যাকশন হলে তার রিয়্যাকশন তো হবেই। এই ব্যক্তিই সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও রেয়াত করেননি। একজন সাংবাদিক এবং শিল্পপতি সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য রয়েছে তাঁর। এটা কখনই বাক স্বাধীনতা নয়। মনে হচ্ছে কারোর জন্য কাজ করছেন তিনি।’ এদিকে কৌতুক কাণ্ডে কুণালকে হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠায় মুম্বই পুলিস। যদিও কুণাল এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন পুলিসের কাছ থেকে।
একই সঙ্গে মুম্বইয়ে যে স্টুডিওতে তিনি স্ট্যান্ড আপ কমেডিটি করেছিলেন সেটিতে ভাঙচুর চালানোয় শিবসেনার(একনাথ সিন্ধে শিবির) কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে একটি নতুন গান বানিয়েছেন কুণাল। সেটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ারও করেছেন তিনি। আজ, মঙ্গলবার সকালে গোটা বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন কমেডিয়ান কুণাল কামরা। তিনি বলেন, ‘কৌতুকশিল্পীদের বাকস্বাধীনতা ধনী ও ক্ষমতাবানদের প্রশংসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। একজন প্রভাবশালী জনগণের ক্ষতি করে অথচ সামান্য কৌতুক সহ্য করতে পারে না। যদিও তাঁর অক্ষমতা আমার অধিকারকে কেড়ে নিতে পারে না। যতদূর জানি এই ধরনের কৌতুক আইন বিরোধী নয়। ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারও ভয়ে খাটের নীচে লুকিয়ে পড়ার মতো মানুষ আমি নই।’