


বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: ভারত সীমান্ত থেকে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের লালমণিরহাট জেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি একটি এয়ারফিল্ড পুনরুজ্জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। এজন্য চীনের সহযোগিতা নিচ্ছে মহম্মদ ইউনুস সরকার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডরের একেবারে নাকের ডগায় এই চীনা গতিবিধিকে ভারত মোটেও হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। কারণ দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিতি এই শিলিগুড়ি করিডর ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মাটিতে এয়ারফিল্ড সংস্কারের নামে চীনের গতিবিধির মোকাবিলায় পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতও। এজন্য ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় তিন দশক ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা কৈলাশহর এয়ারফিল্ড নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাচক্রে, এই কৈলাশহর বিমানবন্দরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ত্রিপুরার এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেই পাকিস্তানি সেনার কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। এটিকে নবরূপে চালু করতে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ টিম পরিদর্শন ও সমীক্ষার কাজ চালিয়েছে।
ভারতের আশঙ্কা, লালমণিরহাট এয়ারফিল্ডের পুনরুজ্জীবনের নাম করে লজিস্টিক সাপোর্টের অছিলায় বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে চীনা ঘাঁটি তৈরি করতে চাইছে। ভারতকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখতে চীন যেভাবে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ নীতি নিয়েছে, এটিকে তার থেকে বিছিন্নভাবে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় ত্রিপুরার কৈলাশহর বিমানবন্দর পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দু’দিন আগেই গুয়াহাটি ও আগরতলা থেকে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কার্যনির্বাহী অধিকর্তা এম রাজাকিশোর, আগরতলা বিমানন্দরের অধিকর্তা কে সি মীনা সহ অন্যান্যরা। কৈলাশহর বিমানবন্দরের রানওয়ে সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন তাঁরা। এম রাজাকিশোর জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অনুরোধে ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে তাঁদের এই সফর। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গ হিসেবে বিমানন্দরটির রানওয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ মিটার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে এটিআর-৭২-এর মতো বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে।