


নয়াদিল্লি: ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’-এর পদে কে বসবেন? আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই এই নিয়ে জল্পনা চলছে। আপাতত ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তিন সদস্যের লিডারশিপ কাউন্সিল। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আয়াতোল্লার পদে বসতে চলেছেন তাঁরই ছেলে মোজতাবা হোসেইনি খামেনেই। শনিবার সকালে মিসাইল হামলায় আয়াতোল্লার সঙ্গেই প্রাণ হারিয়েছিলেন তাঁর মেয়ে, জামাই, নাতনি ও স্ত্রী। সেইসঙ্গে মোজতাবার স্ত্রীরও মৃত্যু হয়। মোজতাবা তেহরানের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। আয়াতোল্লা জীবিত অবস্থাতে উত্তরসূরিদের একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। সেখানে মোজতাবার নাম ছিল না। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, মোজতাবাকে বেছে নিতে চাপ বাড়িয়েছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এরপরই ইরানের ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মোজতাবাকেই সুপ্রিম লিডারের পদে চূড়ান্ত করেছে। যদিও মুম্বইয়ের ইরানের কনস্যুলেট মারফত সেদেশের সরকার জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজাতাবার মনোনয়নের খবরের কোনো সারবত্তা নেই। এরইমধ্যে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ইরানের সুপ্রিম লিডারের পদে যেই বসুন না কেন, তাঁকেই খতম করে দেওয়া হবে।
১৯৬৯ সালে মাশাদ শহরে জন্ম মোজতাবার। আয়াতোল্লার দ্বিতীয় পুত্রসন্তান তিনি। তেহরানে ধর্মীয় শিক্ষা শেষ করেন মোজতাবা। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কোনোদিন সরকারি পদে না থাকলেও ইরানি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন মোজতাবা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দপ্তরের সঙ্গে সরকারের যোগসূত্র হিসাবে এতদিন কাজ করতেন তিনি। সেই সূত্রেই আইআরজিসির মধ্যে তাঁর প্রভাব বাড়তে শুরু করে। সেজন্যই মোজতাবাকে ‘সর্বোচ্চ নেতা’ করার বিষয়ে আইআরজিসি প্রভাব খাটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যেই মোজতাবার সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালে খামেনেই-পুত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। কিন্তু, তারপরেও বিশ্বজুড়ে তাঁর বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ব্রিটেন থেকে শুরু করে ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বেনামে প্রচুর সম্পত্তি কিনেছেন মোজতাবা। যার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, হোটেল। সুইস ব্যাংকেও তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে।