


নয়াদিল্লি: ভারতের গুপ্তচরদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব পেয়েছিল ধৃত ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রা? তার হোয়াটসঅ্যাপ পরীক্ষা করে এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে হরিয়ানা পুলিস ও এনআইএ সূত্রে খবর। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এক হ্যান্ডলার আলি হাসানের সঙ্গে জ্যোতির বার্তালাপের খোঁজ মিলেছে। আটারি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার সময় কোনও ব্যক্তিকে বিশেষ ‘প্রোটোকল’ দেওয়া হচ্ছে কি না, তার দিকে নজর রাখতে জ্যোতিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাসান। ওই বার্তালাপে ‘প্রোটোকল’ ও আন্ডারকভার এজেন্ট’ শব্দ দুটি দু’জনকেই বলতে শোনা যায়। হাসান জ্যোতিকে জানায়, কাউকে বিশেষ প্রোটোকল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখে আন্ডারকভার এজেন্টকে খুঁজে বের করা সম্ভব। তাতে জ্যোতি পাল্টা জানায়, ভারত সরকার এতটা বোকামি করবে না।
এদিকে, পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে নিয়ে চর্চার মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এল। বর্তমানে জ্যোতির পরিবার হরিয়ানার হিসারের বাসিন্দা হলেও, স্বাধীনতার আগে তারা বাহওয়ালপুরে বসবাস করত। বর্তমানে বাহওয়ালপুর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের অন্তর্গত। দেশভাগের সময় বহু পরিবারের মতো জ্যোতির পূর্বপুরুষরাও ভারতে চলে আসেন। প্রথমে তাঁরা পাঞ্জাবের ফরিদকোটে বসবাস করতেন। পরে তাঁরা হিসারে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন। জ্যোতির ঠাকুর্দা ছিলেন হিসার হাসপাতালের আধিকারিক। পরে জ্যোতির বাবা ও অন্য আত্মীয়রা হিসারের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন।
তদন্তে নেমে জ্যোতির ব্যক্তিগত ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করছে পুলিস। জ্যোতির বাড়ি থেকে পাওয়া ওই ডায়েরিতে বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ও পাকিস্তানে ঘুরতে যাওয়ার তথ্য মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়েরির বিভিন্ন পাতায় পাকিস্তানের নাগরিকদের আন্তরিক ব্যবহার, খাবারের প্রশংসা করেছে জ্যোতি। এছাড়া শিখ ও হিন্দু মন্দিরগুলি পাক সরকার যেভাবে সংরক্ষণ করেছে, তারও প্রশংসা করেছে সে। ডায়েরির অন্য পাতায় জ্যোতি লিখেছে, ‘সবিতাকে ফল আনতে বলবে। বাড়ির যত্ন নেবে। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব।’ হিসারের পুলিস সুপার শশাঙ্ককুমার সাওয়ান জানিয়েছে, সবিতা কে, তার সন্ধান শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্যোতির পাকিস্তান ভ্রমণের পাশাপাশি তার চীন ও বাংলাদেশ সফর নিয়েও তদন্ত শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ২০২৪ সালে প্রথমে দশদিনের জন্য পাকিস্তানে গিয়েছিল। পরে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে আরও ২০ দিন সেখানে থেকে যায়। একমাস পরে ভারতে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই ফের চীনে ঘুরতে চলে যায় জ্যোতি। পাকিস্তানে থাকাকালীনই কেউ তার চীন সফরের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া জ্যোতি কী উদ্দেশে বাংলাদেশে গিয়েছিল, তাও এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে।