


বেঙ্গালুরু: প্রিয় টিম ১৮ বছর পর আইপিএল ট্রফি জিতেছে। তাই অফিসে বসের কাছে কয়েক ঘণ্টার ছুটি চেয়েছিলেন বিরাট কোহলির ফ্যান দেবী। গত বুধবার দুপুরে ছুটি মঞ্জুরও হয়ে যায়। আর অপেক্ষা করেননি। কোহলিদের এক ঝলক দেখতে রওনা দিয়েছিলেন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। কিন্তু ট্রফি জয়ের সেলিব্রেশন মুহূর্তে বদলে যায় আতঙ্কে। ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন দেবী। আর ওঠেননি। চিন্নাস্বামীর বাইরে মৃত ১১ জনের তালিকায় নাম রয়েছে এই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরও। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা হলেও বেঙ্গালুরুতেই পড়াশোনা করেছেন দেবী। তারপর সেখানেই একটি টেক সংস্থায় চাকরি পান। চেন্নাইয়ের বদলে বরাবরই দেবীর প্রিয় টিম ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। সহকর্মী ও বন্ধুরাও সেই কথা জানতেন। তাঁর এক সহকর্মী বলেন, ‘ওর ল্যাপটপ এখনও টেবলে রাখা। পড়ে রয়েছে ব্যাগও। শুধু দেবীই নেই।’ ওই বন্ধু আরও বলেন, ‘দেবী যখন জানতে পারে স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য টিকিট দিচ্ছে, তখন ঠিক করে সেখানে যাবে। যদিও অনলাইনে টিকিট পায়নি। তবু আশা করে বেরিয়েছিল, ঠিক ভিতরে ঢুকতে পারবে। শেষবার মেসেজ করে জানায় মেট্রোয় যাচ্ছে। তারপর আর কোনও কথা হয়নি।’ পরে দেবীর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছায়।
কোহলিদের দেখতে গিয়ে একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছেন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা অশ্বিনীও। কোনও সান্ত্বনাই তাঁকে শান্ত করতে পারছে না। অভিশপ্ত দিনের সকালে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল অশ্বিনীর মেয়ে দিব্যাংশী। মেয়ে কোহলির ফ্যান। তাই মেয়েকে স্কুলে না পাঠিয়ে চিন্নাস্বামীতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন অশ্বিনী। মেয়ে, বোন ও ভাইঝিকে নিয়ে রওনা দেন। ভিড়ের মধ্যে যেতে বারণ বলেছিলেন অশ্বিনীর বাবা। কিন্তু তাতে কেউ কান দেয়নি। ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়ে মেয়েকে হারিয়ে ফেলেছিলেন অশ্বিনী। যখন খুঁজে পেলেন, তখন সব শেষ। কান্নার মাঝে কোনওমতে বললেন, ‘আমরা তো ভিতরে ঢুকতেও চাইনি। শুধু একবার কোহলিকে দেখতে চেয়েছিল মেয়ে।’ স্টেডিয়ামের একটিমাত্র গেট সেদিন খোলা ছিল কেন, সেই প্রশ্নও তুলছেন কন্যাহারা মা।
দেবী বা দিব্যাংশীর থেকে ভাগ্য কিছুটা ভালো বেণুর। ঠেলাঠেলির মধ্যে মাটিতে পড়ে আহত হলেও কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছেন। আপাতত হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। সেখানে শুয়ে সে বলে, ‘তিনজন মিলে ৬ নম্বর গেটের কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে যায়। পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যায়।’ আপাতত বিপদ কাটলেও এখনও হাঁটতে পারছেন না বেণু।