


নয়াদিল্লি: দিল্লি থেকে কাশ্মীরের দূরত্ব ৭১০ কিলোমিটার। গত সোমবার লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের নজর এখন সেই কাশ্মীরেই। কারণ, এখনও পর্যন্ত ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাশ্মীর যোগ রয়েছে। সেই সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই ভূস্বর্গে বসবাসকারী ধৃতদের আত্মীয়, সহকর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। মূল লক্ষ্য, বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা মূল ‘মস্তিষ্ক’ তথা ষড়যন্ত্রকারীকে খুঁজে বের করা।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, চিকিৎসকদের নেতৃত্বে তৈরি এই জঙ্গি মডিউল অনলাইনেই নিজেদের জাল ছড়িয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেই কৌশলে নিজেদের মতাদর্শ ছড়াত। হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্ম-চ্যানেলে নিজেদের মতো যোগাযোগ রাখত। তাই তাদের নেটওয়ার্কের হদিশ পেতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপের ফরেন্সিক স্ক্যান করা হচ্ছে। ডিজিটাল ম্যাপিংয়েরও চেষ্টা চলছে। আপাতত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত তিনদিন ধরে পুলওয়ামা, কুলগাঁও, সোপিয়ান ও শ্রীনগরে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। চলছে ধরপাকড়ও।
ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দিল্লি বিস্ফোরণে যুক্ত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অভিযুক্তদের যোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিস ও জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি (এনআইএ)-র পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সেব্যাপারে আরও প্রমাণ জোগাড়ে তৎপর। ইতিমধ্যে পুলওয়ামার বাসিন্দা মুজাম্মিলকে হোয়াইট কলার মডিউলের মূল মাথা ও পরিকল্পনাকারী বলে মনে করছে গোয়েন্দারা। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস পড়ুয়াদের এই শিক্ষক থাকত ফরিদাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে। সেখানে হানা দিয়ে ৩৫০ কেজির বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একে ৪৭ সহ বিপুল অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে একাধিকবার লালকেল্লা এলাকায় রেইকি করতে গিয়েছিল মুজাম্মিল। কাশ্মীরে তার বোন ডাঃ আসমাত শাকিল ওরফে জ্যাসিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, কুলগাঁওয়ের চিকিৎসক আদিল আহমেদ বিস্ফোরণের জন্য লজিস্টিক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল। মুজাম্মিলকে জেরার পর উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে আদিলও আল-ফালাহকে কাজ করত। পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর উন নবি দিল্লি বিস্ফোরণের ঘাতক। সবমিলিয়ে দিল্লির বিস্ফোরণে বীজ উপত্যকাতেই পোঁতা হয়েছিল বলে মনে করছে গোয়েন্দারা।