


শ্রীনগর: এলোপাথাড়ি গুলি চলছে। কেউ রক্তাক্ত হয়ে পহেলগাঁওয়ের মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। কেউ বাঁচার জন্য প্রাণভিক্ষা করছে। কেউ আবার এদিক ওদিক দিয়ে পালানোর রাস্তা খুঁজছে। এমন সময় নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে একের পর এক পর্যটকের জীবন বাঁচাল গুজ্জর-বাকেরওয়াল সম্প্রদায়ের দুই কিশোরী রুবিনা ও মুমতাজ। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে এনে নিজেদের মাটির ঘরে ঠাঁই দেয় দুই বোন।
কাশ্মীরের খরগোশ কন্যা। এই নামেই এলাকায় পরিচিত রুবিনা। গাইডের কাজ করার পাশাপাশি নিজের পোষ্য খরগোশকে ছবি তোলার জন্য ভাড়া দেয় সে। ওইদিন চেন্নাই থেকে আসা এক দম্পতিকে বৈসরণ ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিল রুবিনা। সঙ্গে ছিল বোন মুমতাজও। এমন সময় হঠাৎ গুলির শব্দ। প্রাণ হাতে নিয়ে সবাই এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে। কিন্তু রুবিনা ও মুমতাজ পালায়নি। এলাকার অলিগলি তাদের চেনা। তাই পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সন্ত্রস্ত পর্যটকদের রাস্তা দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে তারা। ফের ছুটে গিয়ে আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসে। দফায় দফায় এভাবেই বহু পর্যটকের প্রাণ বাঁচায়। এমনকী ভাঙা পায়ে এক খুদেকে কোলে করে বাড়ি নিয়ে আসে মুমতাজ। পর্যটকদের জল খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরে হোটেলে ফেরার ব্যবস্থাও করে দেয় দুই বোন। রুবিনার কথায়, ‘ওরা ভয়ে কাঁপছিল। ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না। সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল। তখন আর অন্য কিছু মাথায় আসেনি। একটাই কথা ভেবেছিলাম, যেভাবে হোক তাঁদের বাঁচাতে হবে।’