


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলায় রেল প্রকল্প রূপায়ণে বিলম্বের কারণ হিসাবে বারবার জমি অধিগ্রহণ সমস্যাকে দায়ী করে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে কাঠগড়ায় তোলা হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এমনকি সংসদেও অভিযোগ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বাংলাকে বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জমি রেলের হাতে তুলে দিতে পারে না রাজ্য। এর ফলে রেল প্রকল্পের কাজ শেষ করতে অযথা দেরি হয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যেই অধিগ্রহণ সমস্যায় রীতিমতো জেরবার হয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পর্যাপ্ত জমি মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার রেলের হাতে তুলে দিতে পারেনি। মুম্বইয়ে রেলের একটি প্রকল্প রূপায়ণেই এখনও প্রায় তিন হাজার বর্গমিটার জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে।
শুক্রবার সংসদে এসংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করেছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। সেই রিপোর্টে বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বই লোকাল ট্রেনে মাত্রাছাড়া এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ভিড় সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (সিএসএমটি) থেকে কুরলা করিডর পর্যন্ত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ লাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রেল। মুম্বই রেলওয়ে বিকাশ কর্পোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত করবে মন্ত্রক। মুম্বই আর্বান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-২-এর আওতায় ওই কাজ হবে।
সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ হওয়ার কথা কুরলা থেকে পারেল পর্যন্ত। এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ১০ হাজার ১৩৯ বর্গমিটারের কিছু বেশি জমি। কিন্তু এর মধ্যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৬৫৬ বর্গমিটার জমি অধিগৃহীত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জমি অধিগ্রহণে এই বিলম্বই প্রকল্পের কাজে দেরি করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ওই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় রূপায়িত করার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে রেল বিশেষজ্ঞ মহলের সন্দেহ, যদি সময়ে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে।