


ছত্রপতি সম্ভাজিনগর: কয়েক মাস আগেও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন একনাথ সিন্ধে। এখন এই শিবসেনা (সিন্ধে) নেতা উপ মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের ডেপুটি। কিন্তু সরকারে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বিজেপির এই শরিক দল। আর তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ ক্রমশই পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এবার এক শিবসেনা মন্ত্রীর দপ্তরের বরাদ্দ অর্থ সরানোর অভিযোগ ঘিরে সেই অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এল। সিন্ধের দলের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরাসত নাম না করে এনসিপি নেতা তথা উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের দিকে আঙুল তুলেছেন।এর মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে সিন্ধের দলের গুরুত্ব হারানোর ছবিই ধরা পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শনিবার সামাজিক ন্যায়মন্ত্রী শিরাসত দাবি করেন, তাঁকে না জানিয়েই তাঁর দপ্তরের জন্য বরাদ্দ অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে নিয়েছে অর্থ দপ্তর। উল্লেখ, অর্থ দপ্তর রয়েছে অজিতের হাতেই। এই ঘটনায় শিরাসত কার্যত বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকেও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর তীর্যক মন্তব্য, মাঝেমধ্যে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার বদলে সামাজিক ন্যায় দপ্তরটাই সরকারের তুলে দেওয়া উচিত।
শিরাসত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাকে অন্ধকারে রেখেই ওরা বাজেটের সময় আমাদের দপ্তরের ৭ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল। সরকার যদি চায় যে, সামাজিক ন্যায় দপ্তর কাজ না করুক, তাহলে দপ্তরটাই তুলে দেওয়া উচিত।’ তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অন্যায় আখ্যা দিয়েছেন। সেনা-মন্ত্রী বলেছেন, এভাবে তাঁর দপ্তরের হাত-পা বেঁধে ফেলার পিছনে কে রয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। শিরাসতের দপ্তরের বরাদ্দ থেকে ৪১৩.৩০ কোটি টাকা সরানো হয়েছে বলে খবর। এই বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিরাসত। তাঁর দাবি, এভাবে অর্থ সরানো অবৈধ। অর্থ দপ্তরের এই স্বেচ্ছাচারিতা একেবারেই ঠিক নয়। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, সহ্যেরও একটা সীমা রয়েছে।
এরইমধ্যে অজিতের দলে বিরোধী শিবিরের নেতাদের যোগদান নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সিন্ধের দল। একই সুর বিজেপির এক মন্ত্রীর গলাতেও। সম্প্রতি প্রাক্তন দুই মন্ত্রী সতীশ পাতিল ও গুলাবরাও দেবকর এবং প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ওয়াঘ ও দিলীপ সোনাওয়ানে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনায় জোটের নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন শিবসেনা ও বিজেপি নেতারা।