


ভুবনেশ্বর: সপ্তাহের শুরুতে বিপর্যয় ওড়িশায়। কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বেঘোরে প্রাণ হারাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১০ রোগী। উদ্ধারকাজে নেমে জখম ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁদের অনেকের শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। বিজেপি শাসিত ওড়িশার এই সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিটের জেরে এই দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন। শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ ও জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, ‘কটকের হাসপাতালে দুর্ঘটনার খবর হৃদয় বিদারক। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’ ঘটনায় ইতিমধ্যে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। একইসঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, সোমবার ভোর ৩টে নাগাদ ওই সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে আচমকা আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ট্রমা কেয়ারের আইসিইউ সহ পার্শ্ববর্তী আইসিইউ ও ওয়ার্ড থেকে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে ১০ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন হাসপাতালের কর্মীরা। এরইমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকল ও পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিন সকালেই হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিং। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জখম রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইসিইউতে সাতজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রাণ হারান আরও তিনজন। ইতিমধ্যে ২৩ জন রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাণ বাজি রেখে তাঁদের উদ্ধার করেছেন ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী।’ বিচারবিভাগীয় তদন্তে দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে দু’বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই অগ্নিকাণ্ড। এক ব্যক্তি বলেন, ‘খবর দেওয়ার ২০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে আসে দমকল। প্রথমে রোগীদের অ্যাটেনডেন্ট ও আত্মীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এগিয়ে আসেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও।’ আর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ‘হাসপাতালের এক সিস্টারের সাহায্যে সাতজন রোগীকে উদ্ধার করি। আগুন নেভাতে জানালার কাচ ভেঙেছি। জলও দিয়েছি।’