


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদেশ থেকে ফেরা সরকারের পাঠানো সর্বদলীয় সাংসদ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মঙ্গলবার নিজের সরকারি বাসভবন ৭ লোককল্যাণ মার্গে নৈশভোজে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তুললেন গ্রুপ ছবিও। যেখানে তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য দূরেই ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে বাড়তি কোনও উৎসাহ দেখাননি। রাজ্য রাজনীতির কথা মাথায় রেখেই এমন অবস্থান বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। তবুও সৌজন্য বজায় রাখার পাশাাপাশি প্রোটোকল পালনেই অভিষেক এদিন প্রধানমন্ত্রীর ডাকা নৈশভোজে হাজির হন। তবে সেখানে স্রেফ এক কাপ চা ছাড়া কিছুই মুখে তোলেনি তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে সরকারের ১১ বছর পূর্তিকে অভিনন্দন জানান। সংসদ থেকে সড়ক রাজনৈতিক ‘শত্রু’ হলেও এদিন নৈশভোজের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, আনন্দ শর্মা, অমর সিংয়ের সঙ্গে করমর্দনই নয়, গোলটেবিলে বসে কথাও বলেন মোদি। বাংলা থেকে অভিষেক ছাড়াও বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্যও বিদেশে যাওয়া সর্বদল প্রতিনিধিতে ছিলেন। ছিলেন এদিনের নৈশভোজের অনুষ্ঠানেও। মোট ৫২ সাংসদ, প্রাক্তন সাংসদ, রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে চা, কফি, মাফিন, গ্রিলড স্যান্ডউইচ, পনীর পকোড়া, মেথি বড়া ছিল। পরে নৈশভোজে ছিল নিরামিষ খাবার।
অন্যদিকে, বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করার মোদি সরকারের উদ্যোগ বিফল বলেই মঙ্গলবার সমালোচনা করল কংগ্রেস। অপারেশনের সিন্দুরের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ খতম করতে ভারতের অবস্থান কী, পাকিস্তান কীভাবে দিনের পর দিন জঙ্গি মদত দিয়ে চলেছে, তা বিশ্বের ৩৩টি দেশে প্রচার করতে সম্প্রতি সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল মোদি সরকার। সরকারের বক্তব্য, এই বিদেশ সফর সফল হয়েছে।
কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনেত এদিন বলেছেন, পাকিস্তানকে একঘরে করতে চাওয়ার সরকারি উদ্যোগ সফল হল কই? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব নিচ্ছেন। এমনকী এখন ভারতের সর্বদা বন্ধু রাশিয়াও মানছে সে কথা। কোনও দেশকেই তো পাকিস্তান ইস্যুতে কাছে টানতে পারল না সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। তাহলে এই ট্যুরের সাফল্য কোথায়? - নিজস্ব চিত্র