


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: অপ্রতুল এনসিইআরটির (ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) পাঠ্যবই। চাহিদার তুলনায় জোগান কম— পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে লাগাতার এমন অভিযোগ আসছে শিক্ষামন্ত্রকে। তার জেরেই এবার পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল মোদি সরকার। শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১৫ কোটি পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর টার্গেট দেওয়া হয়েছে এনসিইআরটিকে। শুধু তাই নয়, আগামী আর্থিক বছরে পাঠ্যবই ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হবে আরও দু’কোটির বেশি।
সামগ্রিক বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল। আগামী বছরই পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের অপ্রতুলতার মতো গুরুতর অভিযোগ যাতে অন্তত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী প্রচার এজেন্ডা হয়ে উঠতে না পারে, সেই ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। প্রধানত সেই কারণেই আরও বেশি পাঠ্য পুস্তক ছাপানোর জন্য এনসিইআরটিকে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এব্যাপারে এনসিইআরটি এবং সিবিএসই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি রাজ্যগুলির সঙ্গে এই ব্যাপারে সচিব পর্যায়ের বৈঠকও করতে পারে শিক্ষামন্ত্রক।
মন্ত্রক সূত্রে খবর, সাধারণত প্রত্যেক আর্থিক বছরে বই ছাপানোর আগে চাহিদার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হয়। সিবিএসইর কাছ থেকে এই ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে এনসিইআরটি। একইভাবে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছ থেকেও এই সংক্রান্ত খতিয়ান নেওয়া হয়। একইসঙ্গে দেশের সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়া ভর্তি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বই ছাপানোর কাজে হাত দেয় এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ। তাহলে কেন পর্যাপ্ত বই না থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে? এর কোনও ব্যাখ্যা অবশ্য শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে দেওয়া হয়নি।