


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যাঁকে ইচ্ছা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদেই মনোনীত করা বিহারের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের পক্ষে সহজ হবে না। কারণ লব-কুশ ফ্যাক্টর। নীতীশ কুমারের নিজস্ব ভোটব্যাংক বলতে কৈরি ও কুর্মি। এই দুই অনগ্রসর জাতিকে বিহারে বলা হয় লব-কুশ। আর এই জাতির ভোটের সিংহভাগ বিগত ২০ বছর ধরে নীতীশ কুমার পেয়ে এসেছেন। সুতারং নীতীশের বিদায়ের পর যাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হোক, লব-কুশকে সন্তুষ্ট রাখতেই হবে। সুতরাং অনগ্রসর সমাজের কাউকেই দিতে হবে কুর্সি। যাঁকে লব-কুশ সমাজ মেনে নেবে। কে হতে পারেন তিনি? এটাই আপাতত বিহারের রাজনীতির সবথেকে বড় প্রশ্ন। শুক্রবার রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছেন নীতীশ। কিন্তু একইসঙ্গে এমপি এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকা সম্ভব নয়। অতএব এবার তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে। ১৪ এপ্রিল সম্ভবত তিনি ইস্তফা দেবেন। ১৫ এপ্রিল বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করতে পারেন। শুক্রবার সকালে যখন নীতীশ শপথ নিলেন। আর বিকেলেই দিল্লিতে বিহারের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বৈঠক করল। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনয়ন নিয়ে। নীতীশ রাজ্যসভার শপথ নিয়ে বলেছেন, বিহারে বহু বছর ধরে কাজ করেছি। ফের সংসদে আসার ইচ্ছা ছিল। তাই এখানেই থাকব। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? নীতীশের জবাব, দেখুন কী হয়! সকলে মিলেই ঠিক হবে। বিজেপি যে এবার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নেবে, সেটা স্পষ্ট। কিন্তু জল্পনা কিছুটা থেকেই যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে সংযুক্ত জনতা দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেছিলেন, নীতীশকুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার দায়িত্ব নিতে তৈরি। শুক্রবার দলের ঝাড়খন্ড শাখা বলেছে, মুখ্যমন্ত্রীর পদ সংযুক্ত জনতা দলের কাছেই থাকা উচিত। বিজেপি শুক্রবার বৈঠকের পর সংসদীয় বোর্ড বৈঠক করে নাম চুড়ান্ত করবে। উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, দিলীপ জয়সওয়াল, নিত্যানন্দ রাই, সঞ্জীব চৌরাসিয়া, প্রিম কুমার এরকম একঝাঁক নেতা মনেপ্রাণে আশা নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও আলোচনায় না থাকা কাউকেই একাধিক রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। সুতরাং এবারও সেই সম্ভাবনাই বেশি।