


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: সাধারণ রেলযাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এবার প্রশ্নের মুখে বিমান যাত্রীদের নিরাপত্তাও। সাম্প্রতিক একটি আরটিআইয়ের জবাবে এই ইস্যুতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যাচ্ছে যে, বিমানে ওঠার আগে, অর্থাৎ ডিউটিতে জয়েন করার প্রাক্কালে মদ্যপান করে ধরা পড়েছেন মোট ১৭৬ জন পাইলট এবং ৫৩৬ জন কেবিন ক্র্যু। বিমানে বসেই মদ্যপান করেছেন দু’জন পাইলট এবং ১০ জন কেবিন ক্রু। তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) এই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তাতেই ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল—এই পাঁচ বছরের তথ্য দিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের আওতাধীন ডিজিসিএ (ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন)। বিগত পাঁচ বছরের এই সংক্রান্ত ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টের রিপোর্ট ওই আরটিআইয়ের জবাবে প্রকাশ করেছে ডিজিসিএ।
স্বাভাবিকভাবেই এহেন পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উল্লিখিত আরটিআইয়ের জবাবে এয়ারলাইন্স ভিত্তিক, অর্থাৎ বিমান পরিবহণ সংস্থাভিত্তিক খতিয়ান প্রকাশ করেনি কেন্দ্রের মোদি সরকার। সামগ্রিকভাবে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এক্ষেত্রে বিমানে ওঠার আগে (অর্থাৎ, প্রি-ফ্লাইট) ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এদেশে সাধারণত ডমেস্টিক ফ্লাইটে মদ সরবরাহের বন্দোবস্ত নেই। তাই মদ্যপান করে কেউ বিমানে উঠছেন কি না, তা জানতে প্রি-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট জরুরি। আরটিআইয়ের জবাবে ডিজিসিএ যে পরিসংখ্যান পেশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রি-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টে ধরা পড়া পাইলটের (ককপিট ক্রু) সংখ্যা পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।
২০২০ সালে বিমানে ওঠার আগে মদ্যপান করে ধরা পড়েছিলেন ২৫ জন পাইলট। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যাটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৪ জন। ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ডিউটিতে জয়েন করার আগে মদ্যপান করে ধরা পড়া পাইলটের সংখ্যা যথাক্রমে ১৫, ৩৪ ও ৪৮ জন। এর অর্থ, সংখ্যাটি ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। প্রি-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টে ব্যর্থ কেবিন ক্রুয়ের সংখ্যা পাঁচ বছরে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে ডিউটিতে যোগ দেওয়ার আগে মদ্যপান করে ধরা পড়া কেবিন ক্র্যুয়ের সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। এক্ষেত্রেও মাঝের তিনটি বছরে সংখ্যাটি ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। ২০২১ সালে ৩৯ জন, ২০২২ সালে ১১৯ জন এবং ২০২৩ সালে ১৬০ জন। ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টে প্রথমবার ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পাইলটের লাইসেন্স তিনমাসের জন্য সাসপেন্ড করে ডিজিসিএ। দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হলে সাসপেনশনের মেয়াদ থাকে তিন বছর। তৃতীয়বারও একই ঘটনা ঘটলে পাইলটের লাইসেন্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।