


ভুবনেশ্বর (পিটিআই): খনি অফিসারের ফ্ল্যাটই যেন ‘টাকার খনি’! একটার পর একটা ট্রলিব্যাগ ঠাসা পাঁচশো ও একশো টাকার নোট। গুনতে হিমশিম খেল মেশিনও। ওড়িশায় খনি অফিসারের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার এই টাকার স্তূপ। নগদের পরিমাণ চার কোটি টাকার বেশি। দুর্নীতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভিজিলেন্স দপ্তরের ডিরেক্টর যশোবন্ত জেঠওয়া বলেছেন, দুর্নীতি দমন সংস্থার অভিযানে ওড়িশায় এটাই সবচেয়ে বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনা। এর আগে সর্বাধিক নগদ উদ্ধার হয়েছিল ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল। গঞ্জাম জেলায় ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের এক অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। মঙ্গলবার রাতের অভিযান সেই ঘটনাকে পিছনে ফেলে দিল। বিষয়টি নিয়ে ওড়িশার বিজেপিকে সরকারকে নিশানা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাস। তাঁর তোপ, তথাকথিত ডবল ইঞ্জিন সরকারের মদতেই যে দুর্নীতি ফুলেফেঁপে উঠছে, টাকা উদ্ধারের এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
সরকারি সূত্রে খবর, ডেপুটি ডিরেক্টর অব মাইনস দেবব্রত মোহান্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ভিজিলেন্স দপ্তর। লাইসেন্স প্রাপ্ত এক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তিনি। গ্রেপ্তারির পরই ভিজিলেন্স দপ্তর একযোগে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। মোহান্তির ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ৪ কোটি টাকার বেশি উদ্ধার হয়েছে। ভদ্রক জেলায় মোহান্তির পৈতৃক বাড়ি ও কটকের অফিসেও হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। অফিসের ড্রয়ারেই মিলেছে নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ভুবনেশ্বরে মোহান্তির একটি প্রাসাদোপম দোতলা বাড়ি ও প্রায় ১৩০ গ্রাম সোনারও হদিশ মিলেছে। ২ হাজার ৪০০ বর্গ ফুটের একটি জমিতে মোহান্তির আরও একটি দোতলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে। অভিযুক্ত অফিসারের নামে মোট ১০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লকার রয়েছে।
ভুবনেশ্বর ডিভিশনের ভিজিলেন্স দপ্তরের এসপি সরোজ কুমার সমল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা নগদ গোনা হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালেও দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়িয়েছিল মোহান্তির। ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি আদালতে সেই মামলা চলছে।