


নয়াদিল্লি: প্রস্তাবিত ‘এক দেশ, এক ভোট’ আইন অসাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী। যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে এমনটাই জানালেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তথা আইন কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এ পি শাহ। সোমবার ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিল নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে ১২ পাতার নোট জমা দিয়েছেন শাহ। তবে প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে প্রস্তাবিত বিলটিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি সংসদীয় কমিটির কাছে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বিল সাংবিধানিক সব শর্ত পূরণ করছে। বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মোট প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিল নিয়ে আলোচনা করেন শাহ ও সালভে। কমিটির সদস্যরা তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে চৌধুরী জানান, ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই গত বছর ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল পেশ করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাশ হয়নি। এরপর বিল নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর কথা জানায় কেন্দ্র। আপাতত খসড়া বিলটির পরিমার্জনের কাজ করছে কমিটি। ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিল তৈরির জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। সালভে ছিলেন সেই কমিটির অন্যতম সদস্য। কমিটির আইনি পরামর্শদাতার দায়িত্বে ছিলেন শাহ। তাই ‘এক দেশ, এক ভোট’ নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিলটির একাধিক গলদের কথা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন আইন কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। যেভাবে বিধানসভা ভোট স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন দিল্লি হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। কমিটিকে শাহ জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচন পাঁচ বছরের ব্যবধানেই হওয়া উচিত। কিন্তু ‘এক দেশ, এক ভোট’ আইন কার্যকর হওয়ার পর একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের নোটিস জারি হবে। তার ফলে রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন যত দেরিই থাক, পরের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের কারণ হিসেবে বিপুল সরকারি খরচ কমানোর যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্র। তার সঙ্গেও একমত নন শাহ। তবে এর বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, যৌথ কমিটির সদস্য ডিএমকে সাংসদ পি উইলসনের প্রশ্নের উত্তরে সালভে জানিয়েছেন, এই বিল মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করবে না। সংবিধানের বিধি মেনেই বিল তৈরি করা হয়েছে।