


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ ব্যবস্থা চালু করতে মোদি সরকারের সংবিধান সংশোধন বিলের সিংহভাগে আপত্তি জানালেন দেশের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। নির্বাচন কমিশনের হাতে অত্যধিক ক্ষমতা তুলে দেওয়ার বিপক্ষে সওয়াল করলেন তিনি। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, কোনও ক্ষেত্রে ভোটের সময় কমিশন পিছিয়ে দিলে তা আদতে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকেই সহায়তা করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতোই ওই রাজ্যের ক্ষমতা কেন্দ্র ছিনিয়ে নেয়। যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী। ফলে এমনটা হলে যে কেউ আদালতে মামলা করতে পারেন।
তাই একসঙ্গে (লোকসভা-সব রাজ্যের বিধানসভা) নির্বাচন হওয়ার পর পাঁচ বছরের আগেই কোনও বিধানসভা ভঙ্গ হয়ে গেলে কতদিন পর ভোট হবে, সেটা ঠিক করার ক্ষমতা ভারতের নির্বাচন কমিশন নয়, সংসদের থাকা উচিত। মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে হাজির হয়ে এভাবেই নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। ১২ পাতার একটি বিস্তারিত নোট জমা করেও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিজেপির সাংসদ পি পি চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ১১ জুলাই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে একই মতামত জানিয়ে গিয়েছিলেন দেশের আরও দুই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং জে এস কেহর। ফলে শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের মতামতে চাপে মোদি সরকার।
ঘটনা হল, স্রেফ বিশেষজ্ঞ ‘অতিথি’দের মতামতই নয়। এদিন বৈঠকে এক দেশ এক নির্বাচনের কয়েকটি ক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি সাংসদ ভ্রর্তৃহরি মেহতাবও। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এদিন জানতে চেয়েছেন, একসঙ্গে নির্বাচন তো হল। কিন্তু কোনও কারণে যদি সময়ের আগেই লোকসভা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং কেউ সরকার গড়তে সমর্থ না হয়, তাহলে কী হবে? তখন কি লোকসভার সঙ্গে ফের গোটা দেশের সব রাজ্যের বিধানসভাও হবে? একইভাবে বিজেপির অনুরাগ সিং ঠাকুর জানতে চেয়েছেন, লোকসভার সঙ্গে একসঙ্গে সব রাজ্যের ভোট না করে যদি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, তাহলে কেমন হয়। অর্ধেক হল একসঙ্গে। বাকি অর্ধেক রাজ্য একসঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এক দেশ এক নির্বাচন করাতে সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে যত আলোচনা এগচ্ছে, ততই বিপক্ষ তথা প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। এতদিন তৃণমূল সহ বিরোধীরা এক দেশ এক নির্বাচনের বিপক্ষে ছিল, এবার ক্রমশ বিজেপি সাংসদরাও প্রশ্ন তুলছেন।