


ইসলামাবাদ: ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় তাঁকে বাঙ্কারে লুকোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশ্যে একথা স্বীকার করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। সে দেশের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জারদারি জানান, ওই সময় সামরিক সচিব সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আপনার বাঙ্কারে সরে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে জারদারি সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব যদি কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা হয়ে লুকিয়ে পড়ে, তাহলে জাতির কাছে ভুল বার্তা পৌছবে। তিনি আরও বলেন, যদি মৃত্যু নির্ধারিত থাকে, তবে তা কর্মস্থলেই হোক, বাঙ্কারে লুকিয়ে নয়। জারদারির এহেন মন্তব্য সামনে আসায় পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এর আগে পাক প্রশাসনের তরফে অপারেশন সিন্দুর সম্পর্কে কার্যত উলটো কথাই বলা হয়েছে। বলা হয়েছিল, ভারতের সামরিক অভিযানে বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি পাক সেনা। বরং পাকিস্তানের হামলায় ভারত পিছু হটেছিল, এই দাবি করে এসেছে ইসলামাবাদ। তবে বাস্তবে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব যে রীতিমতো আতঙ্ক ও চাপে ছিলেন, প্রেসিডেন্ট জারদারির মন্তব্য তা প্রমাণ করছে। অনেকের মতে, একজন প্রেসিডেন্টের মুখে এমন স্বীকারোক্তি এই প্রথম। এই ঘটনা প্রমাণ করে ওই সময় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না।
একা জারদারি নন, পাক বিদেশমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার প্রকাশ্যে স্বীকার করেলেন, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের নুর খান এয়ার বেসে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, মূলত ড্রোন হামলা চলেছিল ভারতের তরফে। বেশিরভাগই প্রতিহত করা যায়। কিন্তু একটি ড্রোনের হামলা এড়ানো যায়নি। তিনি বলেন, এই হামলায় এয়ার বেসের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময় এয়ার বেসে কর্মরত কয়েকজন সামরিক সদস্যও আহত হন। উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তান সরকার এই ধরনের ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকারোক্তি ভারতের সামরিক অভিযানের প্রভাব এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নুর খান এয়ার বেস পাকিস্তানের অন্যতম কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি।