


পুরী: নির্ধারিত তিথির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। মর্জিমাফিক দিনে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা উদযাপন করছে ইসকন। এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় প্রথা ও বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমনই অভিযোগে সরব পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এর ফলে প্রভু জগন্নাথের লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভাবাবেগ আহত হয়েছে। প্রয়োজনে এবিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বৈঠকে বসেছিল ‘ঐক্য স্থাপন মণ্ডলী’। পৌরহিত্য করেন শ্রী জগন্নাথ টেম্পল ম্যানেজিং কমিটির প্রধান গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট তিথির বদলে অন্য কোনও দিনে রথযাত্রা পালন করা হচ্ছে। কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনি পদক্ষেপই এখন আমাদের শেষ বিকল্প। বিদেশ ও সংস্কৃতিমন্ত্রকের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মায়াপুরে ইসকনের সদর দপ্তরেও চিঠি দেওয়া হবে।’
অভিযোগ, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতে তিথি মেনে স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসকন। তবে তা মানা হয়নি। ইতিমধ্যে এবিষয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন গজপতি মহারাজ ও শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধি। তাঁদের দাবি, ৭৯টি অঞ্চলে অন্য দিনে রথযাত্রা উদযাপন করেছে ইসকন। ১০টি জায়গায় একইভাবে তিথি না মেনে স্নানযাত্রা পালন করা হয়েছে। এই অবস্থায় ইসকনকে ফের একবার সতর্ক করল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে গজপতি মহারাজ বলেছেন, ‘জৈষ্ঠ পূর্ণিমার দিন প্রভু জগন্নাথদেবের জন্ম। সেদিনই স্নানযাত্রা। কীভাবে কেউ এই তিথি বদলাতে পারে? তিথি অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়ার দিনেই রথযাত্রা উদযাপন করা হয়। উৎসব চলে সাতদিন ধরে। খুশি মতো যে কোনো দিনে তা পালন করা যায় না।’