


নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বাড়ছে কুকুরের কামড়ের ফলে জলাতঙ্কে আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার এব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। সম্প্রতি দিল্লিতে একটি ৬ বছরের শিশুকন্যার জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সেই ঘটনাসহ সংবাদমাধ্যমগুলির বিভিন্ন প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে আদালত। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ বলেছে, ‘প্রতিবেদনগুলিতে যে তথ্য ও পরিসংখ্যান উঠে এসেছে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রের একটি রিপোর্টে জানানো হয়, ২০২৪ সালে কুকুরের কামড়ের শিকার ৩৭ লক্ষেরও বেশি। তাদের মধ্যে ৫৪ জনের জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে প্রতিদিনই বহু মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে। যার ফলে বাড়ছে জলাতঙ্ক আক্রান্তের সংখ্যা। তালিকায় রয়েছে বহু শিশু ও বয়স্ক। এদিন সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছে, ‘প্রয়োজনীয় নির্দেশের জন্য প্রধান বিচারপতির সামনেও প্রতিবেদনগুলি পেশ করা হবে।’ প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই পথ কুকুরদের খাবার দেওয়ায় বাধা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘আপনি কেন রাস্তার কুকুরদের আপনার বাড়িতে এনে খাওয়াচ্ছেন না? আপনাকে কেউ বাধা দেবে না।’
দেশজুড়ে জলাতঙ্ক বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম। সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। কার্তি বলেছেন, দেশজুড়ে পথকুকুরদের জন্য নতুন নীতি তৈরির প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ‘পথকুকুরদের জন্য টিকা, নিরাপদ আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে হবে। তাদের যাতে প্রতিপালন করা হয়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। কিন্তু খোলা রাস্তায় ওই প্রাণীগুলিতে ছেড়ে রাখা যায় না।’