


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেলওয়ে ট্র্যাক অ্যাক্টিভিটি মনিটরিং থেকে ট্রেনের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার নিয়ে সিদ্ধান্ত। অথবা ট্রেন শিডিউলিং ও লজিস্টিক্যাল প্ল্যানিং থেকে ডিসপ্লে বোর্ড আপডেটিং। অর্থাৎ, ট্রেন পরিচালনের ভার যাঁদের উপর থাকে, রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার সেই ‘ট্রেন কন্ট্রোলার’দের কর্ম পরিবেশ উন্নত করতে উদ্যোগী হচ্ছে মন্ত্রক।
জানা গিয়েছে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তাঁদের ‘রিফ্রেশার কোর্স’ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। পাশাপাশি, মানসিক শান্তি বজায় রাখতে ট্রেন কন্ট্রোলারদের ধ্যান এবং যোগাভ্যাসেও শামিল করানো, ১৫ দিনে অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিংও করানো হবে। এর ফলে তাঁদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য কেমন, সেই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাও মিলবে আধিকারিকদের। এই পদে কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যাতে অন্তত তিন বছর ট্রেন নেটওয়ার্কিং ম্যানেজের অভিজ্ঞতা থাকে, তাও নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে সবক’টি জোনে চিঠি পাঠিয়েছে রেল বোর্ড। এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলের জোনগুলিকে। সামগ্রিক বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল।
ট্রেন পরিচালনগত ক্ষেত্রে এই ‘ট্রেন কন্ট্রোলার’দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাবতীয় ব্যবস্থা মসৃণভাবে চালানোর ভার থাকে তাঁদেরই কাঁধে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই মানসিকভাবে চাপে থাকার আশঙ্কা থাকে সংশ্লিষ্ট রেল কর্মীদের। আর তাঁদের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতিতেই বড়সড় গোলযোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে ‘ট্রেন কন্ট্রোলার’দের নিয়ে রেলমন্ত্রকের এহেন মরিয়া চিন্তাভাবনা মোটেও হালকাভাবে দেখা হচ্ছে না। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, ট্রেন কন্ট্রোলারদের ‘ডোমেন নলেজ’ না থাকলে পরিচালনগত কাজকর্ম ত্রুটিহীনভাবে করা সম্ভবই নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ট্রোল অফিসে কোন পদ্ধতিতে ট্রেন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, রেলওয়ে স্টেশনের ভিড় সামলানো হচ্ছে, পরিবর্তিত হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম—হাতেকলমে সেই শিক্ষা থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর প্রধানত সেই কারণেই এবার থেকে কন্ট্রোল অফিসে অন্তত তিন বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলে ‘ট্রেন কন্ট্রোলার’ পদে উন্নীত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল বোর্ড সূত্রে খবর, এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দক্ষ রেলের ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর ও স্টেশন মাস্টারকেই ট্রেন কন্ট্রোলারের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কন্ট্রোল অফিসের সমস্ত পদেই ‘রোটেশন’ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্মচারীদের কর্ম কুশলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করছেন রেল বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকরা।