


নয়াদিল্লি: জ্বলেই নিভল বিদ্রোহের চিরাগ! ভোটমুখী বিহারে একের পর এক খুনোখুনি-অপরাধের রমরমায় রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। বিরোধীদের সুরেই রাজ্যের এনডিএ সরকারকে বিঁধেছিলেন। এমনকী একধাপ এগিয়ে শরিক দল এলজেপি (রামবিলাস) প্রধান এও বলেছিলেন, ‘আমরা এই সরকারকে সমর্থন করি, ভাবলে লজ্জা হয়!’ তাঁর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই শাসক জোটকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলে। প্রকাশ্যে আসে জোটের অন্দরের ফাটল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সুর নরম রামবিলাস-পুত্রের। মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নীতীশের হয়েই ব্যাট ধরলেন। মঙ্গলবার চিরাগ বললেন, ‘আসন্ন ভোটে এনডিএ জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন নীতীশই।’ সেইসঙ্গে নিজের আগের মন্তব্যকে বিদ্রোহ নয়, উদ্বেগ বলেও সাফাই দিয়েছেন তিনি। তাহলে কি বিজেপি-জেডিইউ-এলজেপি জোটের অন্দরে সব কিছু ঠিকঠাক? এব্যাপারে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই বিহারের ভোটে লড়াই করবে এনডিএ। তাঁর এই দাবি নীতীশের দল জেডিইউ-র অস্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তারা বরাবরই বিহারে নীতীশের নেতৃত্বেই ভোটে লড়াইয়ের কথা বলে আসছে।
হাজিপুরের সাংসদ চিরাগ বলেছেন, ‘আমি বহুবারই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসের কথা বলেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই জোট বিহারে লড়াই করবে। ভোটের ফল বেরোলে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন।’ বিহারে ভোটার তালিকার চলতি স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিসন নিয়েও বিরোধীদের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন মোদি সরকারের মন্ত্রী। বলেছেন, এটা নতুন কিছু নয়।
বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠানোর দাবি তুলেছেন। এব্যাপারে চিরাগের জবাব, এমন কোনও দল পাঠানোর প্রয়োজন নেই। তিনি সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। সেজন্যই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মাত্র। বিরোধীরা তাঁর ওই উদ্বেগকেই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বিদ্রোহ হিসেবে দেখাতে চাইছে।