


নয়াদিল্লি: এ যেন দুই ভারতের কাহিনি। সেই ভারতে পোস্টাল অ্যাড্রেস এক হলেও জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। সেই দুনিয়ার মধ্যে রয়েছে এক অদৃশ্য পাঁচিল। তার একদিকে জীবন অনেক সুন্দর। সেখানে ট্যাপ কল দিয়ে জল পড়ে, বাড়িতে কারেন্ট থাকে, কয়েক পা এগোলেই স্কুল-হাসপাতাল। অথচ সেই এলাকা ছাড়িয়ে কিছুটা গেলেই দেখা মেলে অন্য একটা ভারতের। পাঁচিলের সেদিকে সার সার বাড়ি। চারপাশে দুর্গন্ধময় খোলা নর্দমা। বিদ্যুৎ কখন আসবে, তার অপেক্ষায় বসে থাকে সেখানকার মানুষজন। ওই এলাকার ছেলেমেয়েদের যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরের স্কুলে। শৌচাগারে যেতে হলে বা খাওয়ার জল সংগ্রহের জন্য লাইন দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ভারতের গ্রাম ও শহরে ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে সামাজিক ব্যবধান ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। দলিত ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার সঙ্গে সমাজের অন্য অংশের মধ্যে গড়ে উঠেছে ওই অদৃশ্য পাঁচিল। সম্প্রতি এই দুই ভারতের এই ছবি উঠে এসেছে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকনমিক রিসার্চ (এনবিইআর)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্টে। ‘রেসিডেন্সিয়াল সেগ্রিগেশন অ্যান্ড আনইকুয়াল অ্যাকসেস টু লোকাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক সেই সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে ধর্ম ও জাতিগত ভিত্তিতে দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায় তুলনামূলকভাবে কম জনপরিষেবা পাচ্ছেন। এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন সাম অ্যাশের (ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন), কৃতার্থ ঝা (ডেভলপমেন্ট ডেটা ল্যাব), পল নোভোসাদ (ডার্টমাউথ কলেজ), অঞ্জলি আদুকিয়া (শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়) ও ব্র্যান্ডন তান (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়)। ভারতের শহর ও গ্রামের ১৫ লক্ষ জায়গায় সমীক্ষা চালিয়ে, জনগণনা সহ বিভিন্ন সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে।
ভারতে দলিত এবং মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি। প্রায় ৫০০ জন বাসিন্দাকে নিয়ে এক একটি ব্লক করে গবেষণা চালানো হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে দলিত এবং মুসলিম জাতি বিভাজন বিশ্বের হিসাবে অনেকটাই বেশি। এই হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কালো-সাদা বিভাজনের তুলনাতেও এগিয়ে। শহরগুলির মধ্যে দলিত ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি পরিষেবা ও পরিকাঠামোগত সুযোগ কম মেলে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সাধারণভাবে প্রান্তিক দলিত ও মুসলিমদের এই পরিষেবা থেকে বঞ্চনার কোনো তথ্য সমীক্ষা রিপোর্টে ধরা পরে না। আর সেই কারণে তা দূর করার জন্য কোনো সরকারি উদ্যোগও দেখা যায় না।