


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি; হলিউডের একটি বিখ্যাত সিনেমা রয়েছে—‘কাম সেপ্টেম্বর’। ১৯৬১ সালের সেই সিনেমার প্লটের সঙ্গে রাজনীতির বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। সিনেমার উপজীব্য হল, কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় কেন্দ্রীয় চরিত্র ও দর্শকদেরও বিস্মিত হওয়া। ২০২৫ সালের ভারতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক জল্পনা, চর্চা এবং গুঞ্জন হঠাৎ যেন ওই সিনেমার নাম মনে করিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ কাম সেপ্টেম্বর। আসন্ন এই সেপ্টেম্বর মাস কি বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের জন্য কোনও সারপ্রাইজ নিয়ে আসতে চলেছে? তুমুল আলোড়ন ফেলেছে এই জল্পনাই। শুধু বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবার নয়, বস্তুত রাজনৈতিক মহলের মধ্যেই অপেক্ষা সেপ্টেম্বর মাস ঘিরে। এই চর্চার কারণ, মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক সেই বিস্ফোরক মন্তব্য। সঙ্ঘেরই একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে কৌতুকছলে বলেছিলেন, ‘৭৫ বছর বয়স হলে নবীনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয় নেতৃত্বকে।’ সূত্রের খবর, ৭৫’এর সমীকরণ আরও জটিল করতে চলেছেন মোহন ভাগবত। কারণ, বিজয়া দশমীর দিনই ভাষণের পর ‘অবসর’ নিতে চলেছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে দিল্লির দরবারে।
নাগপুরের সঙ্ঘের প্রবীণ নেতা মোরোপান্ত পিংলেকে নিয়ে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভাগবত তাঁরই একটি মন্তব্য টেনেছিলেন ভাগবত। বলেছিলেন, ‘৭৫ বছর বয়সে পিংলেজিকে বৃন্দাবনে যখন সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তখন ওই মঞ্চেই তিনি বলেছিলেন, ৭৫ বছর বয়সে শাল দেওয়ার অর্থ আমি জানি।’ আসল বার্তা ছিল, ৭৫ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে, এবার আপনি সরে দাঁড়ান। তৎক্ষণাৎ প্রবল জল্পনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, ভাগবতের লক্ষ্য কি নরেন্দ্র মোদি? কারণ, ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। তাহলে কি ভাগবত ইঙ্গিত দিলেন যে, মোদিরও অবসর নেওয়া উচিত? আর মোহন ভাগবত নিজে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই কি ওই সূক্ষ্ম বার্তা দিয়ে রাখলেন মোদির জন্য? কারণ, ভাগবত নিজেও আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ করছেন। গেরুয়া রাজনীতির এই দুই পাওয়ার সেন্টারেরই জন্ম ১৯৫০ সালে। ভাগবত ১১ সেপ্টেম্বর এবং মোদি ১৭ সেপ্টেম্বর। সঙ্ঘ সূত্রে খবর, মোহন ভাগবত কোনও বেফাঁস কথা এই বয়সেও বলেন না। মোদির ছ’দিন আগেই তাঁর ৭৫ পূর্ণ হচ্ছে। তিনি পদ আঁকড়ে থাকবেন এবং মুখে বলবেন যে, ৭৫ বছর বয়স হলে নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়... এটা তাঁর চরিত্রের সঙ্গে বেমানান। মোদিকে তিনি যদি সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়ার বার্তা দিয়েই থাকেন, সেই একই মানদণ্ড নিজের জন্যও হয়তো ভেবে রেখেছেন সরসঙ্ঘচালক। চলতি বছরই আরএসএসের শতবর্ষ। সেই মোক্ষম সময় কবে আসতে চলেছে? সূত্রের খবর, আগামী বিজয়া দশমী। সেদিনের ভাষণই প্রধান পদে মোহন ভাগবতের শেষ বক্তৃতা হতে পারে। ১০০ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাসে ৬ জন সরসঙ্ঘচালক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর ৩২ বছর ছিলেন এই পদে। মধুকর দত্তাত্রেয় দেওরস ২১ বছর। তাঁদের দু’জনের পরই সবথেকে বেশিদিন সরসঙ্ঘচালক পদে রয়েছেন মোহন ভাগবত। ২০০৯ সালে থেকে ১৬ বছর। বিজেপির মধ্যে আলোচনা প্রবল যে, শতবর্ষের ভাষণের মাধ্যমেই মোহন ভাগবত তাঁর এই সাফল্যপূর্ণ সফর শেষ করতে পারেন। সেটা না করলে প্রশ্ন উঠবে, আরএসএস প্রধান মুখে যা বলেন, সেটা নিজেই যদি কার্যকর না করেন, তাহলে মোদি কী দোষ করলেন? তাহলে আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখাও আপ্তবাক্যই কি গ্রহণ করতে চলেছেন ভাগবত?