


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতে হিন্দুত্ব রাজনীতির সূত্রপাত হয়েছে হিন্দু মহাসভা ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হাত ধরে। বিজেপির কট্টরপন্থী অংশ, বজরং দল কিংবা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলি লাগাতার উগ্র হিন্দুত্বের প্রচার করে থাকে। কিন্তু আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত সেখানে ভারসাম্য রক্ষা করেন সৌভ্রাতৃত্ব, সর্বধর্মসমন্বয়, সকলেই ভারতমাতার সন্তান ইত্যাদির কথা বলে। বিগত বছরগুলিতে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে বারবার। বুধবার সেই মোহন ভাগবতই হঠাৎ ফিরলেন হিন্দুত্বের চড়া সুরে। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শহর লখনউতে এক অনুষ্ঠানে তিনি ডাক দিয়েছেন হিন্দু ঐক্যের। একইসঙ্গে হিন্দুদের কাছে তাঁর আহ্বান—তিন সন্তান নীতি নিতে হবে। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম ও নবদম্পতিদের কাছে এই বার্তা দেওয়া হোক যে, তারা যেন তিন সন্তান নীতি নেয়। কারণ, ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার কমতে শুরু করেছে। আর সেই প্রবণতায় হিন্দুদের অনুপাতই বেশি। তাই ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য ভবিষ্যতে বজায় রাখতে হিন্দুদের তিন সন্তান নীতি নেওয়া প্রয়োজন। যদিও তিন সন্তান সহ একটি পরিবার সংসার প্রতিপালন করবে কীভাবে এবং বর্তমান সরকার সেই অর্থনৈতিক আবহ গড়ে তুলতে সফল হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ভাগবত আরও বলেন, হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমনিতে হিন্দুদের কোনও ভয় নেই। হিন্দু যে বিপদে পড়তে পারে অন্য কারও দ্বারা, এমন সম্ভাবনা নেই। তবু সতর্ক থাকা দরকার। এখানেই থেমে যাননি তিনি। বলেছেন, যারা একসময় ধর্মান্তরিত হয়েছিল তারা যদি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরতে চায়, তাদের সাদরে বরণ করতে হবে। আর সুরক্ষাও দিতে হবে। অর্থাৎ ধর্মান্তরকরণের পক্ষেও সায় দিয়েছেন মোহন ভাগবত, যাকে সংঘ পরিবার ‘ঘর ওয়াপসি’ বলে অভিহিত করে। সংঘের বক্তব্য, আজ যারা ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টান, তাদের পূর্বপুরুষ কোনো না কোনো সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিল। এখন তাদের উত্তর-পুরুষরা যদি আবার স্বধর্মে ফিরতে চায়, তাহলে সেই সুযোগ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু এব্যাপারে কোনোরকম হিংসা, প্রলোভন, সংঘাতের পথ নেওয়া যাবে না বলে সতর্ক
করেছেন ভাগবত। তিনি বলেন, ভারতে যারা থাকে, তারা সকলেই ভারতীয়। সুতরাং ভারতীয়রা যেন একে অন্যকে কোনোভাবেই আঘাত না করে।