


পাটনা: নীতীশ জমানার ইতি। পদ্ম শিবিরের রণকৌশলে শেষমেশ বুধবার বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন সম্রাট চৌধুরী। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণে গেরুয়া শিবিরে খুশির হাওয়া। কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ‘দলবদলু’ সম্রাট চৌধুরীর। গলার কাঁটা শিক্ষাগত যোগ্যতা। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের দাবি, মাদুরাই কামারাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। এখানেই অসংগতি ধরা পড়েছে। আগের নির্বাচনি হলফনামা বলছে, সম্রাটের পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। ক্লাস সেভেন থেকে রাতারাতি ডি.লিট! এমন দাবি হজম করতে পারছে না বিরোধী শিবির। সম্প্রতি এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরও। বিস্ময় প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, একজন দশম শ্রেণির পরীক্ষা পাশ না করেও কীভাবে ডি.লিট পেতে পারেন। একইসঙ্গে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে সম্রাটের বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগ।
সম্রাটের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়েও চর্চা তুঙ্গে। নির্বাচনি হলফনামা বলছে, সম্রাটের ব্যাংকে রয়েছে ২৮.৪৫ লক্ষ টাকা। ৭ লক্ষ টাকা দামের গাড়ির পাশাপাশি তাঁর কাছে ৬ লক্ষ টাকার অস্ত্রসস্ত্রও রয়েছে। জমি-বাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিক এই বিজেপি নেতা। সম্রাটের স্ত্রী মমতা কুমারীর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা।
২০১৭ সালে পদ্মপার্টিতে যোগ দেন সম্রাট। তবে তাঁর দলবদলের ইতিহাস দীর্ঘ। বাবা শকুনি চৌধুরীর হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আরজেডি থেকে জেডিইউ। সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন। শেষমেশ নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে। বিধায়ক, মন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে এবার লক্ষ্যপূরণ। মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বিহারের ওবিসি সম্প্রদায়ের মুখ সম্রাট চৌধুরী।