


নয়াদিল্লি: প্রয়াত শিবু সোরেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা শিবু এক মাসের বেশি সময় কিডনির সমস্যা নিয়ে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে সেখানেই মৃত্যু হয় ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। ৮১ বছর বয়সি রাজনীতিকের মৃত্যুতে পুত্র হেমন্ত সোরেন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধেয় দিশম গুরুজি আর নেই ... আমি আজ শূন্য হয়ে গেলাম।’ শিবু সোরেনের প্রয়াণ নিঃসন্দেহে ভারতীয় রাজনীতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন শিবু সোরেন। দেড় মাস আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মেডিক্যাল টিম যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সোমবার সকালে শিবু সোরেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’
শিবু সোরেনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া দেশজুড়ে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শ্রী শিবু সোরেনের প্রয়াণ সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বড় ক্ষতি। আদিবাসীদের পরিচয় ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনে তাঁর ভূমিকা গোটা দেশ মনে রাখবে।’ শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘শিবু সোরেনজি ছিলেন একজন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা। উপজাতি সম্প্রদায়, দরিদ্র ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।’ শিবু সোরেনের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘শিবু সোরেনজির প্রয়াণে শোকাহত। তিনি ছিলেন আদিবাসী ভাইবোনদের দিশম গুরু (মহান নেতা)। আমার ভাই হেমন্ত সোরেন, তাঁর পরিবার ও অনুরাগীদের জানাই সমবেদনা। আজ ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে লিখেছেন, ‘ঝাড়খণ্ডকে রাজ্যের মর্যাদা দিতে আজীবন লড়েছিলেন শিবু। আদিবাসীদের জল, জীবন, জঙ্গল, ভূমি ও সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আদিবাসী সমাজের কণ্ঠস্বর সোরেনজি সারাজীবন জনজাতির অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। ঝাড়খণ্ড তৈরিতে তাঁর ভূমিকা গোটা দেশ মনে রাখবে।’