


নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে স্ত্রী-সন্তানের সামনে মহারাষ্ট্রের অতুল মোনেকে গুলি করে খুন করেছিল জঙ্গিরা। জবাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মধ্যে দিয়ে পাল্টা জবাব দেয় ভারত। মঙ্গলবার রাত তিনটে নাগাদ ভারতীয় সেনার এই প্রত্যাঘাতের তথ্য জানতে পারেন অতুল-কন্যা। জঙ্গিদের যোগ্য প্রত্যুত্তর দেওয়ায় সেনাবাহিনীর উপর নতুন করে ভরসা-বিশ্বাস ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন রিচা মোনে। অতুলের স্ত্রী আকাঙ্ক্ষা জানান, এই প্রত্যাঘাত পহেলগাঁওয়ে নিহত ২৬ জনের আত্মাকে শান্তি দিল। ভারতের পাল্টা জবাবে খুশি বৈসরণে মৃত ওড়িশার প্রশান্ত শতপথীর পরিবারও। কিন্তু এই একটা প্রত্যাঘাতেই যাতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে না যায়, সেই আর্জি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী। প্রিয়দর্শিনী আচার্যের কথায়, যতক্ষণ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ এই লড়াই যেন না থামে। বাড়ি বাড়ি ঢুকে এই জঙ্গিদের নিকেশ করা উচিত। আমার স্বামী তো ফিরবে না। কিন্তু আর যেন কারও সিঁথির সিঁদুর যেন না মোছে।
পহেলগাঁওয়ের হানায় বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও তাড়া করছে কেরলের বাসিন্দা আরতিকে। তাঁদের চোখের সামনে এন রামচন্দ্রনকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ‘অপারেশন সিন্দুর’ সেই দগদগে ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিল বলে জানিয়েছেন আরতি। প্রত্যাঘাতের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুনের সন্তোষ জাগদালের স্ত্রী প্রগতি। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা যেভাবে আমাদের সিঁথির সিঁদুর মুছেছে, তার যোগ্য জবাব দিয়েছে সেনাবাহিনী। এদিনের সেনা অপারেশনের কথা শুনে আমার চোখে জল চলে এসেছিল।’ নিহত শুভম দ্বিবেদীর স্ত্রী অশন্যা বলেন, ‘স্বামীর হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এটা সূচনা। আমি জানি, সমস্ত জঙ্গিদের খতম না করা পর্যন্ত মোদিজি থামবেন না।’ একই সুর ছিল মৃত কৌস্তভ জ্ঞানবতের স্ত্রী সঙ্গীতার গলাতেও। তিনি বলেন, ‘মোদিজি কী পদক্ষেপ নেন, তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছিলাম। উনি যোগ্য জবাব দিয়েছেন। অপারেশন সিন্দুর নামের মধ্যে দিয়ে সেনাবাহিনী নারীদের সম্মান জানিয়েছেন।’
সংবাদমাধ্যমের সামনে রিচা ও আকাঙ্ক্ষা।