


নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বড়োসড়ো ধাক্কা খেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সমন এড়ানো মামলায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নোটিসও পাঠানো হয়েছে। এরফলে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পেলেন জেএমএম নেতা হেমন্ত।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে। জানা গিয়েছে, সমন পাঠানোর পরও হাজিরা দিচ্ছেন না হেমন্ত। এই অভিযোগ তুলে রাঁচির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে তারা। এর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে মামলা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, সেখানে তাঁর মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। এদিন শুনানিতে ইডির আইনজীবী জানান, সাতবার সমন পাঠানো হয়েছিল সোরেনকে। কিন্তু, তিনি হাজিরা দেননি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই দাবির কড়া বিরোধিতা করেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী মুকুল রোহাতগি। তিনি পালটা জানান, সোরেন তিনবার হাজিরা দিয়েছিলেন। তারপর ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই ইডির আইনজীবী জানান, ম্যাজিস্ট্রেট মামলা গ্রহণের প্রায় এক বছর বাদে অর্থাৎ অনেক দেরিতে মামলা খারিজ সংক্রান্ত হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এই মামলায় স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্টে। তারপর প্রধান বিচারপতি মৌখিকভাবে জানান, গতকাল খবরের কাগজ পড়ছিলাম। দেখলাম, আপনারা দিস্তা দিস্তা অভিযোগ দায়ের করেছেন। মনোযোগ দিয়ে সেই মামলাগুলিতে সমস্ত শক্তি ব্যয় করুন। কিছু ইতিবাচক ফল বেরবে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের রেশ ধরে বিচারপতি বাগচীর বার্তা, প্রকৃত তদন্তে নজর দিন।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠের কাছ থেকে ৮.৮৬ একর জমির কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সম্পত্তি মুখ্যমন্ত্রীর। তার ভিত্তিতেই আর্থিক তছরূপ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে এজেন্সি। সেই মামলার তদন্তে সোরেনকে সমন পাঠায় ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ডেকে পাঠানোর পরও তিনি হাজিরা দেননি। এরপর ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।