


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: বাংলার পর দিল্লি, ত্রিপুরা! তৃণমূল, আম আদমি পার্টি, সিপিএম—একের পর এক বিরোধী নেতাদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। নিখুঁত চিত্রনাট্য? উঠছে অভিযোগ! ১৩০তম সংবিধান সংশাধনী বিল আপাতত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কোর্টে। বিরোধীরা জেপিসি বয়কট করলেও সংসদে ওই বিল পাশ হওয়া আটকাবে না বলে সোমবার ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর তারপরই রাজ্যে রাজ্যে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
জেপিসির হাত ঘুরে আসার পর সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই বিলটি পাশ করিয়ে নিতে চায় মোদি সরকার। আর তার আগে সংসদের বাইরেও প্রাথমিক কিছু প্রস্তুতি সেরে রাখা হচ্ছে বলে বিরোধীদের আশঙ্কা। সেই প্রস্তুতি হল, আগামী বছর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগেই বিরোধী নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান, হানা, তল্লাশি এবং অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া। এরপর ক্রমেই বড়সড় মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা হবে। এবং ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে তাঁরা যদি জামিন না পান, তাহলেই হারাতে হবে পদ। তা এককথায় ভীতির সঞ্চার করবে বিরোধীদের মধ্যে।
দু’বছর আগে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। সোমবার প্রায় একইভাবে তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে ইডি। আর এদিন তারা অভিযান চালিয়েছে দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজের বাড়ি, অফিস মিলিয়ে ১৩টি স্থানে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেতা বিজেন্দ্র গুপ্তা। কী অভিযোগ? সৌরভ মন্ত্রী থাকাকালীন ২৪টি হাসপাতাল সংস্কার সংক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নয়ছয় হয়েছে। সেই অভিযোগেরই তদন্ত চলছে। এমনকী মঙ্গলবার দিল্লি থেকে বহু দূরে ত্রিপুরার খয়েরপুরে পবিত্র কর, কাঞ্চনপল্লীতে পরিতোষ ভৌমিক, ক্যাম্পেরবাজারে স্বরূপ বণিক, নলছড়ে হারাধন বৈদ্যের মতো বাম নেতাদের বাড়িতে পর্যন্ত দিনভর তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। আবার এদিনই হিমাচল প্রদেশের বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভায় বিজেপির অভিযোগ, উনা জেলার একটি সোলার প্রকল্পে প্রবল দুর্নীতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। অভিযোগও দায়ের হবে। কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, ‘ইডি, সিবিআইয়ের ক্ষমতা থাকলে তদন্ত করুক। কাদের আমলে এই দুর্নীতি হয়েছিল, আমাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে।’
আপ সহ তামাম বিরোধী দলের অভিযোগ, এই প্রবণতার পিছনে রয়েছে বৃহত্তর চক্রান্ত। বিরোধী দলের বিধায়ক, কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে অভিযান। পরবর্তী টার্গেট বিরোধী রাজ্যের মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীরা। এদিনও বিজেপি বলেছে, আপের দুর্নীতির প্রতিটি অধ্যায় ফাঁস হবে। আপ নেতা সঞ্জয় সিংয়ের পাল্টা দাবি, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সি যত নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে, প্রত্যেককে জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কোনও রাজ্যে কোনও অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না।’
কেজরিওয়ালের দলের মতে, আইনের রক্ষক হয়ে অপরাধীদের মতো কাজ করার জন্য সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সমালোচনা করেছে ইডির। গত পাঁচ বছরে তারা ৫ হাজারেরও বেশি কেস করেছে। আর সাজা হয়েছে ০.১ শতাংশের। এরপরও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা কেন? কারণ, ওই ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে আগামী দিনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা।