


নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন পরে শান্তিতে রাত কাটাল ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির। কোনও গোলাগুলি চলেনি। ওপার থেকে উড়ে আসেনি ড্রোনও। ১৯ দিন পর নির্বিঘ্ন রাত কাটাল সীমান্তবর্তী রাজ্যের মানুষজন। সোমবার সকালেই সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে কোনও গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এর অর্থ সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ রাত কেটেছে।’ গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে গিয়েছিলেন। সোমবার সকালে তাঁদের অনেককে ফিরতে দেখা গেল। উরির কামালকোটের বাসিন্দা আর্শাদ আহমেদ বলেন, ‘দুই দেশ সংঘর্ষবিরতি মেনে নেওয়ায় আমরা খুশি। আশা করি, পাকিস্তান আবার এই ধরনের কাজ করবে না।’ উরির বিধায়ক সাজ্জাদ শরিফ অবশ্য এখনও স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছেন। তাঁর বার্তা, সন্দেহজনক কিছুতে হাত দেবেন না। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরেই সাম্বার আকাশে পাকিস্তানের ড্রোন ইন্টারসেপ্ট করার আওয়াজ শোনা যায়। সাম্বাতে ব্ল্যাক আউট চলছে।
সোমবার সকাল থেকেই পাঞ্জাবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা করতে ভিড় জমান অনেকে। তবে ফিরোজপুর, পাঠানকোট, অমৃতসর, তরন তারন, গুরুদাসপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখা হয়। সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরেছে। অনেকেই মনে করেন জঙ্গিদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়া গিয়েছে। যেমন পাঠানকোটের এক দোকানদার জানালেন, ‘পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দিয়েছে ভারত। এখন আর পাকিস্তান ভারতকে চটানোর সাহস পাবে না।’ পাক হামলার ভয়ে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়েছিলেন ফিরোজপুরে। সোমবার সকালে তাঁদের অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। জাল্লো কে গ্রামের বাসিন্দা দালের সিং বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অনেকেই বাড়ি ফিরে আসছেন। আশা করি সংঘর্ষবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ তবে রাতে অমৃতসরে ফের ব্ল্যাক আউট হয়। শোনা গিয়েছে সাইরেনের শব্দও।
রবিবার রাতেও রাজস্থানের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ব্ল্যাক আউট জারি ছিল। বারমেরের আকাশে রাতের অন্ধকারে লাল আলো দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। অনেকেরই সন্দেহ সেগুলি ছিল ড্রোন। খোদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে সকলকে সতর্ক করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘ড্রোন দেখা যাচ্ছে। ঘরের মধ্যেই সকলে থাকুন। ব্ল্যাক আউট পালন করুন।’ জালম সিং নামে জয়সালমেরের এক বাসিন্দা জানান, ‘মনে হচ্ছে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। গত রাত শান্তিপূর্ণ ছিল।’