


লখনউ: প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পা রেখে ইতিহাস গড়েছেন শুভাংশু শুক্লা। ১৮ দিন মহাশূন্যে কাটিয়ে ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। আপাতত ভারতীয় বায়ুসেনার এই গ্রুপ ক্যাপ্টেন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে মারকিন মুলুকের হিউস্টনে। তাঁর দেশের ফেরার অপেক্ষাতেই দিন গুনছে লখনউয়ের বাসিন্দারা। শুধু লখনউ নয়, প্রতীক্ষায় গোটা ভারতও। বৃহস্পতিবার ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, শুভাংশুর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। কোয়ারেন্টাইনে তাঁর হৃদযন্ত্র, পেশি ও মানসিক স্বাস্থ্যের নানা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, শুভাংশু ও তাঁর সহযোগীরা ২৩ জুলাই পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে কাটাবেন। এরপর ২৪ জুলাই থেকে ইসরোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন তাঁরা। তারপর অ্যাক্সিয়ম ও নাসার সঙ্গে ‘ডিব্রিফিং’য়েও অংশ নেবেন।
বুধবার শুভাংশুর সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী কামনা ও ছ’বছরের ছেলে কিয়াশ। এতদিন পর স্ত্রী-পুত্রকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে তাঁদের জড়িয়ে ধরেন নভশ্চর। কামনা জানিয়েছিলেন, ধীরে ধীরে পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন স্বামী। শুভাংশুর বাবা শম্ভু দয়াল শুক্লা এদিন বলেছেন, ‘ফোনে ওদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ছেলে খুব খুশি। এই সাফল্য ওর কাছে কেবল ব্যক্তিগত নয়, দেশের জন্যও গর্বের।’ খুশি আত্মীয়-প্রতিবেশীরাও। শুভাংশুর লখনউয়ে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। সিটি মন্টেসরি স্কুলের ছাত্র ছিলেন শুভাংশু। এই স্কুলে এখন সাজসাজ রব। স্কুল পড়ুয়ারা বলছে, ‘আমিও মহাকাশচারী হতে চাই।’ প্রস্তুতি চলছে আরও বড় এক অভিযানের— গগনযান। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রাখা প্রথম ভারতীয়ই এই মিশনের ফ্রন্টম্যান।