


পোর্ট ভিলা ও নয়াদিল্লি: বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ললিত মোদির পাসপোর্ট বাতিল করে দিল ভানাতু। আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতা ললিতকে সম্প্রতি নাগরিকত্ব দিয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র। কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ললিত ভারতে প্রত্যর্পণ এড়াতেই ভানাতুর নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠতেই ভানাতুর প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাট তাঁর দেশের সিটিজেনশিপ কমিশনকে ললিতের পাসপোর্ট বাতিল করার নির্দেশ দেন। নাপাট বলেছেন, ‘কেউ প্রত্যর্পণের হাত থেকে বাঁচতে নাগরিকত্ব চাইলে, তা বৈধ কারণ হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না। সম্প্রতি যে সব তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে ললিতের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ ললিতের নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ করা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ভানাতুর নাগরিকত্ব পাওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর ললিত ভারতীয় নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদন করেছিলেন। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকে লন্ডনেই বসবাস করেন ললিত। ভানাতুর পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর ভারতও যদি আবেদন মেনে তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়, তাহলে তিনি ব্রিটেনে ‘বেআইনি বসবাসকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
ভানাতু সরকারের তরফে জারি করা প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ললিত মোদিকে পাসপোর্ট দেওয়ার আগে ইন্টারপোলের নোটিস সহ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপের সন্ধান পাওয়া মেলেনি।’ ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আমি জানতে পারি, ইন্টারপোল ললিতের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করার অনুরোধ প্রমাণের অভাবে দু’বার খারিজ করে দিয়েছে। এমন নোটিস জারি হলে এমনিতেই ললিতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত।’ দিল্লির একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, ললিতের নাগরিকত্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই ভারত সরকারের তরফে ভানাতুর কাছে তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করার আবেদন করা হয়েছিল। নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
ভানাতুতে পাসপোর্ট পাওয়া অত্যন্ত সহজ। ভারতীয় মুদ্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ দেওয়া হয়। ভানাতুর পাসপোর্ট বিশ্বে অন্যতম ‘শক্তিশালী’ পাসপোর্ট বলে পরিচিত। তার মাধ্যমে অন্তত ১২০টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি মেলে। এর মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশও রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক অপরাধীরা ভানাতুর নাগরিকত্ব বেছে নিচ্ছে। স্থায়ী নাগরিক হয়ে গেলে আয়কর, ব্যবসায়িক কর থেকে সম্পত্তি কর কিছুই দিতে হয় না। সেই কারণেই গত দু’বছরে অন্তত ৩০ জন ভারতীয় ভানাতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারতের দূতাবাস নেই। ফলে একবার নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে অপরাধীদের দেশে ফেরানো কঠিন। ললিতও সেই সুযোগটাই নিতে চেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।