


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: কেম ছো? বাংলায়, কেমন আছো? স্বাভাবিক সৌজন্য। কে জানত, এই দুটো শব্দই বের করে আনবে বছর কুড়ির উবের চালক মহম্মদ ইরফানের বুকের ভিতরের চাপা যন্ত্রণাকে!
পড়াশোনার বালাই নেই। ছোট থেকেই লেগে যেতে হয়েছে কাজেকর্মে। সংবাদপত্র মানেই তাই অজানা অক্ষরের হিজিবিজি। ইরফানদের প্রতিদিনের সংগ্রামে যা মূল্যহীন। দিনযাপনের সেই লড়াইটাই উঠে এল ‘কেম ছো’র জবাবে। মাথায় ফেজ টুপি পরা জানালেন, ‘আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। বেকারত্ব ঘিরে ধরেছে। রোজগার তলানিতে। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। কী করে চলবে বলতে পারেন?’ কিন্তু গাড়ি চালিয়ে কি সংসার চালানো যায় না? ওল্ড আমেদাবাদের বাসিন্দা হিসেব দিলেন— গাড়ির মালিককে প্রতিদিন সাড়ে সাতশো টাকা দিতে হয়। আরও সাতশো জ্বালানির জন্য। সংসারের খরচা কম করে হলেও প্রতিদিন পাঁচশো। ইরফানের কথায়, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই সাব। প্রতিটা দিন কী করে চলবে সেটা ভেবেই ঘুম হয় না। এগুলোর উপর ক্যাব সংস্থা আবার প্রতিদিন তিনশো টাকা কাটে। আবার প্রতিটা সফরের উপর কমিশনও নেয়। কিন্তু রোজ আড়াই হাজার টাকা তো আর ওঠে না!’
শুনতে শুনতে অবাকই লাগছিল। মোদিজির গুজরাত মানেই তো উন্নয়নের জ্বলন্ত প্রতীক। তাহলে এমন বেহাল দশা কেন? ইরফানের সাফ জবাব, ‘সবই প্রচার। প্রদীপের তলার অন্ধকারের মতো দশা আমাদের।’ এরপরই প্রশ্ন, ‘আচ্ছা, বেঙ্গল কা হাল ক্যায়সা? শুনা হ্যায়, মমতা দিদি আচ্ছে কাম কর রহি হ্যায়।’ তারপর নিজের মনেই বলতে থাকা, ‘আসলে ঝুট-ঝামেলা কেউ পছন্দ করে না। সাধারণ মানুষ তো নিজের মতো করে বাঁচতে পারলেই খুশি। ক্ষমতায় যে দলই বসুক, পরিশ্রম না করে তো মুখে রুটি উঠবে না। কিন্তু পলিটিক্সের জন্যই হিন্দু-মুসলিম সমস্যা জিইয়ে রাখা হয়। নাহলে ভোট মিলবে না যে!’ মনে পড়ল স্টেডিয়ামের কর্মী মহেশ ভাইয়ের কথা। একটু আগেই শুনে এসেছি, ‘জানেন তো, সবাই পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চায়। দাঙ্গা, মারপিট মানেই তো জান-মালের ক্ষতি। সাধারণ মানুষের প্রাণান্তকর দশা।’ সত্যিই তো, রাম-রহিমের দ্বন্দ্ব মানেই যে ঘোলাজলে মাছ ধরতে বসা। এবং স্বার্থসিদ্ধি। অশান্তি না থাকলে তা হবে কীভাবে!