


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেউ আমাদের যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেনি। পাকিস্তান ভারতের তিন সামরিক বাহিনীর পরাক্রমে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরাজয় স্বীকার করে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল। তাই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং লোকসভায় অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে এই দাবি করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা চিৎকার করে বলতে শুরু করলেন, ট্রাম্প...ট্রাম্প...ট্রাম্প। রাজনাথ সিং একটু থমকে গিয়ে বললেন, একটা কথা জেনে রাখুন। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি আজ পর্যন্ত সর্বদাই চেষ্টা করেছি এবং মান্য করেছি, সত্য কথা বলতে। সুতরাং এই বিবৃতির মধ্যে বিন্দুমাত্র অসত্য নেই। পাকিস্তান কোণঠাসা হয়ে যুদ্ধ বন্ধের আবেদন করেছিল। ভারতের লক্ষ্য ছিল, শতাধিক জঙ্গি সহ ন’টি জঙ্গি শিবিরকে ধুলিসাৎ করা। সেটি অপারেশন সিন্দুরের ২২ মিনিটেই সফল হয়েছে। আমরা সেদিন রাত দেড়টার পরই পাকিস্তানকে জানিয়েছিলাম, ভারত জঙ্গিদের প্রত্যাঘাত করেছে। আমরা আর এই অপারেশন এগিয়ে নিয়ে যাব না। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ করল। যদিও এতে কোনও ক্ষতি হয়নি। অপারেশন সিন্দুর কিন্তু বন্ধ হয়নি। স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তান অতি সক্রিয়তা দেখালে ভারত আবার জবাব দেবে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও একই সুরে বলেন, ২২ এপ্রিল থেকে ১৭ জুনের মধ্যে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে কোনও ফোন কল হয়নি। তাই শুল্ক হুমকির জন্য যুদ্ধবিরতি হয়েছে, এমনটা মোটেও নয়।
এর আগেই কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ সহ বিরোধী নেতারা সমস্বরে বলেন, সবই তো বুঝলাম, কিন্তু যুদ্ধবিরতি কেন হল? ১০০ দিন কেটে গেল। অথচ দেশবাসী জানতেই পারল না যে, জঙ্গিরা কোথা থেকে পহেলগাঁওয়ে এল। কোথায় গেল। পহেলগাঁওয়ের ঘটনা কেন আটকানো গেল না? কেন সরকার নীরব?
কল্যাণ তাঁর বক্তৃতায় ছেড়ে কথা বললেন না জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকেও। বললেন, তাঁকে তো জেমস বন্ড বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাহলে তিনি পহেলগাঁওয়ের ইন্টেলিজেন্সে কেন ব্যর্থ? অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে কল্যাণ বলেন, এত বড় অপদার্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিচালন আগে কখনও দেখেনি দেশ। পহেলগাঁওয়ের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। দায় নিতে হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। করজোড়ে গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আরও একটি বিষয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যখন যুদ্ধ চলছিল, তখন দাবি উঠেছিল, এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করুক ভারত। বালুচিস্তান স্বাধীন করা হোক। রাজনাথ সিং এদিনের ভাষণে স্পষ্ট বলেছেন, অপারেশন সিন্দুরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কখনওই কোনও ভূমি অথবা এলাকা দখল করা ছিল না। লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসকে ধ্বংস করা।