


ভুবনেশ্বর, ১৪ এপ্রিল: ওড়িশার জাজপুর হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী-সহ গ্রেপ্তার করা হল অভিযুক্ত মোট ৫ জনকে। উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই গোলমালের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রী শুভশ্রী ওরফে সীমাকে বাধা দেন স্বামী সৌম্যসাগর। কিন্তু কিছুতেই লাভ হয়নি। এরপর গত ৬ এপ্রিল রাতে জাজপুরের গড়িয়াপুর চকে দোকান বন্ধ করে কালিমেঘা এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন সৌম্য। সেই সময় আচমকাই দুই দুষ্কৃতী বাইকে চেপে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর জখম হন সৌম্য। তড়িঘড়ি তাঁকে প্রথমে জাজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কটকের মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টির তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জানা যায়, দেড় বছর আগে সৌম্যর সঙ্গে শুভশ্রীর বিয়ে হয়েছিল। তখন তিনি একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অভিযোগ, বিয়ের আগে থেকেই প্রীতি এবং তাপসের সঙ্গে ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভশ্রীর। বিয়ের পরও তিনি বিবাহ বহির্ভূত এই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পারেন তার স্বামী। ব্যাপক গোলমালও হয়। ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কথাও স্ত্রীকে বলেন সৌম্য। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এরপরই স্বামীকে দুনিয়া থেকে সরানোর ছক কষে শুভশ্রী। দুষ্কৃতীদের সাহায্যে গুলি করে খুন করা হয় সৌম্যকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী শুভশ্রী, তাপস, প্রীতির পাশাপাশি সুরজ সিং ও অঙ্কিত ঠাকুর নামের দুই দুষ্কৃতীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও।