


রায়পুর: বর্ষা এলেই প্রতি বছর মাওবাদী অভিযানে কিছুটা লাগাম পরানো হয়। প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে কাজ চালানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই এই সাময়িক বিরতি। এবারের পরিস্থিতি অবশ্য আলাদা। ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। একের পর এক শীর্ষনেতার মৃত্যুতে রীতিমতো কোণঠাসা মাওবাদীরা। এই পরিস্থিতিতে তাই কোনওভাবেই আর অভিযান শিথিল করতে চায় না কেন্দ্র। রবিবার সেই ঘোষণাই করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর হুঙ্কার, ‘রাজ্য ছাড়ার আগে আমি ছত্তিশগড়ের মানুষকে জানাতে চাই, প্রত্যেক বছর বর্ষায় মাওবাদীরা কিছুটা বিশ্রাম নেন। এবার কিন্তু তাদের আর ঘুমোতে দেব না। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, সেই দিকে আমরা আরও এগিয়ে যাব।’
রবিবার নয়া রায়পুরে ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (এনএফসিইউ) ক্যাম্পাস এবং সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে অমিত শাহের বক্তব্যের পরতে পরতে ছিল মাওবাদ বিরোধী সুর। পাশাপাশি অস্ত্র ছেড়ে রাজ্যের মাওবাদীদের পুনর্বাসন প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, ‘আমি মাওবাদীদের দলে যোগ দেওয়া রাজ্যের বিপথগামী যুবকদের বলতে চাই, আত্মসমর্পণ করে রাজ্যের আকর্ষণীয় প্রকল্প বেছে নিন। সরকারের উপর আস্থা রাখুন। অস্ত্র ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরুন।’ সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, অস্ত্র ছেড়ে ফেরা যুবকদের আমরা আরও সহায়তা করার চেষ্টা করব। এই নিয়ে রাজ্যের বিষ্ণুদেও সাই সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘দেড় বছরে মাওবাদ বিরোধী অভিযানকে আরও গতি দিয়েছে বিষ্ণুদেও সাই সরকার। উগ্র বামপন্থার হাত থেকে রাজ্যকে মুক্ত করতে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে এই সরকার।’
চলতি মাওবাদী বিরোধী অভিযান নিয়ে রবিবার রায়পুরে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকও করেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকে মাওবাদী উপদ্রুত ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র্র, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার শীর্ষ পুলিসকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।