


নয়াদিল্লি: কোনও মহিলা কান্নাকাটি করলেই পণের জন্য নির্যাতনের মামলা করা যায় না। শুধুমাত্র এটুকু তথ্য দ্বারা এই জাতীয় অভিযোগও প্রমাণিত হয় না। সম্প্রতি এমনই পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের। পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের মামলায় জামিন পেয়েছিলেন এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। পরে জামিনের বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মহিলার পরিবার। সেই আবেদন খারিজ করে এমনই জানালেন বিচারপতি নীনা বানশাল কৃষ্ণা।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয় ওই মহিলার। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার চালাতেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়েতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। তারপর বাইক, নগদ টাকা, সোনার ব্রেসলেট সহ নানা দাবিও পূরণ করা হয়। তারপরও অত্যাচার করা হতো। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ দুই সন্তানের মা ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা করা হয়। কিন্তু অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালত। কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মহিলার মৃত্যু হয়েছে। জামিনের নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মহিলার বাপের বাড়ির লোকজন। প্রমাণ হিসেবে মৃতের বোনের বয়ান পেশ করা হয়। বোনের বক্তব্য, হোলির সময় তিনি দিদিকে ফোন করেছিলেন। দিদি খুব কান্নাকাটি করছিল।
পুরো বিষয়টি শোনার পর মামলাটি খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের সাফ বক্তব্য, মহিলা শুধু কাঁদছিলেন বলে পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ হয় না। ময়নাতদন্তে স্বাভাবিক মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া মহিলার বাবা নির্দিষ্ট করে কোনও নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করেননি। এমনকী অভিযুক্তকে টাকা দেওয়ার কোনও প্রমাণও দিতে পারেননি। তাই শুধুমাত্র কান্নার কথা বা কিছু দাবির ভিত্তিতে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ হয় না।